বগুড়ার ধুনট থেকে চুরি যাওয়া ২৭০ মণ চাল পুলিশের অভিযানে উদ্ধার
বগুড়ায় চুরি যাওয়া ২৭০ মণ চাল পুলিশের অভিযানে উদ্ধার

বগুড়ার ধুনট উপজেলা থেকে চুরি হওয়া প্রায় ২৭০ মণ চাল পুলিশের অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ধুনটের চিকাশী ও গোসাইবাড়ি ইউনিয়নে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে এই চাল উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো জব্দ করে বগুড়া পুলিশ লাইন্সে রাখা হয়েছে।

চুরির ঘটনা ও পুলিশের তদন্ত

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি হিলি সীমান্ত থেকে ট্রাকযোগে ২৬ কেজি ওজনের ৪২০ বস্তা ইন্ডিয়ান হোয়াইট গোল্ড সিল্কি সোর্টেক্স চাল বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ট্রাকের চালক হারুন মিয়া ট্রাকসহ নিখোঁজ হন বলে মালিকপক্ষ আজাদ গ্রুপ দাবি করে। চালকের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে কোম্পানির লোকজন খোঁজাখুঁজি করেও কোনও সন্ধান না পেয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অভিযানের বিস্তারিত

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়া সদর থানার এসআই মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে এবং ধুনট থানার এসআই ওসমান গণি, এএসআই নায়েব উল্লাহ ও বেলাল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নের বড়চাপড়া গ্রামের মৃত সায়েদ আলীর ছেলে পোশাক শ্রমিক সুরুজ মিয়ার বসতঘর থেকে ৩৪০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব গুয়াডহুড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান মন্ডলের ছেলে মইনুল মন্ডলের বসতঘর থেকে আরও ৮০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়।

পৃথক দুটি স্থান থেকে মোট ৪২০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়, যার ওজন প্রায় ২৭০ মণের বেশি। ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, "এটা সদর থানার ঘটনা। গতকাল সদর থানার টিম এসেছিল। আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করেছি। তারা চাল উদ্ধার করে নিয়ে চলে গেছে।"

গ্রেফতার ও মামলার অবস্থা

এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার এসআই মেহেদী হাসান বলেন, "এ ঘটনায় কেউ গ্রেফতার নেই। জড়িতরা পলাতক রয়েছেন। চালগুলো উদ্ধারের পর জব্দ করে বগুড়া পুলিশ লাইন্সে রাখা হয়েছে। চালের মূল মালিককে জানানো হয়েছে। তিনি বুধবার এসে মামলা করবেন।"

এই ঘটনায় পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে, তবে চুরির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, শীঘ্রই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং চালের মালিককে ন্যায়বিচার দেওয়া হবে।