আদালতের আদেশে এনসিপি নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও এনআইডি ব্লক প্রত্যাহার
আদালতের আদেশে তানভীরের দেশত্যাগ নিষেধাজ্ঞা ও এনআইডি ব্লক প্রত্যাহার

আদালতের আদেশে এনসিপি নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও এনআইডি ব্লক প্রত্যাহার

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর বহিষ্কৃত যুগ্ম সদস্য সচিব এ বি এম গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লকের আদেশ প্রত্যাহার করেছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ গত রবিবার (১ মার্চ) শুনানি শেষে এই আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিশ্চিত করেছে।

দুদকের বিবৃতি ও আদালতের সিদ্ধান্ত

দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, “গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও এনআইডি আনব্লক চেয়ে করা আবেদন শুনানি শেষে আদালত মঞ্জুর করেছেন।” তানভীরের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান শেষ হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুদক আদালতকে প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও এনআইডি ব্লকের আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করলে তা মঞ্জুর হয়।

তানভীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও দলীয় পদক্ষেপ

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম সারির নেতাদের নিয়ে গঠিত দল এনসিপির শীর্ষস্থানীয় নেতা তানভীরের ‘হঠাৎ বিলাসী জীবন’ এবং সামাজিক মাধ্যমে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দলটির ভেতরে আলোচনার জন্ম হয়। দুর্নীতির অভিযোগের পর ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল এনসিপি তাকে যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়।

ওই সময়ে জেলা প্রশাসক নিয়োগ ও এনসিটিবির বই প্রকাশ সংক্রান্ত ‘কমিশন বাণিজ্য’ ও হস্তক্ষেপের অভিযোগে তার বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ২৭ মে দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও এনআইডি ব্লকের আদেশ জারি করা হয়। তবে বর্তমানে আদালতের আদেশে সেই বাধা তুলে দেওয়া হয়েছে।

আদালতের সিদ্ধান্তের প্রভাব

এই সিদ্ধান্তের ফলে তানভীর এখন দেশের বাইরে যেতে এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করতে পারবেন। আদালতের রায়ে দুদকের অনুসন্ধান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই প্রত্যাহারের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। এই ঘটনা রাজনৈতিক ও আইনি মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলার প্রক্রিয়া সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিতে পারে।