জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতন: স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির কারাদণ্ড
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতন: স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির কারাদণ্ড

জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতন: স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির কারাদণ্ড

জামালপুরের একটি আদালত মঙ্গলবার যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে এক ব্যক্তি ও তার পিতা-মাতাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দিয়েছে। আদালতের রায়ে স্বামীকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও শ্বশুর-শাশুড়িকে দেড় বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্তদের পরিচয় ও বিবাহের পটভূমি

দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ৩০ বছর বয়সী মো. সোহেল মিয়া এবং তার পিতা-মাতা ৫৩ বছর বয়সী মো. মাহমুদ আলী ও ৪৮ বছর বয়সী মোসাম্মৎ ঢালী বেগম। তারা সকলেই জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ঝাউদাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোহেল মিয়া ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর একই উপজেলার কোলাকান্দা গ্রামের মো. ফজলুল হকের কন্যা ২১ বছর বয়সী মোসাম্মৎ ফাহিমা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিবাহের পরপরই সোহেল ফাহিমার কাছ থেকে তিন লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবি করতে শুরু করেন। ফাহিমা যখন এই দাবি পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তখন নির্যাতন তীব্র আকার ধারণ করে।

নির্যাতনের চূড়ান্ত পর্যায় ও মামলা দায়ের

২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর সবচেয়ে ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার ১৫ দিন পর ফাহিমার পিতা ফজলুল হক তার কন্যার নির্যাতনের কথা জানতে পারেন এবং তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

ফজলুল হক দেওয়ানগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যা তদন্তের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের দিকে নিয়ে যায়।

আদালতের শুনানি ও রায়

নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং প্রাসঙ্গিক প্রমাণ পর্যালোচনার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেন।

আদালত মো. সোহেল মিয়াকে দুই বছরের কঠোর কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। তার পিতা মো. মাহমুদ আলী ও মাতা মোসাম্মৎ ঢালী বেগমকে প্রত্যেককে দেড় বছর করে কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা দেওয়া হয়।

বিচারিক প্রক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া

পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক রায় নিশ্চিত করে বলেন যে, এই রায়ের মাধ্যমে নির্যাতিতার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে। তিনি আদালতের এই সিদ্ধান্তকে নারী নির্যাতন বিরোধী আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এই মামলাটি যৌতুকের দাবিতে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রদর্শন করেছে এবং সমাজে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।