উত্তরার দিয়াবাড়িতে স্কচটেপ পেঁচিয়ে ডাকাতি, গৃহকর্ত্রীর মৃত্যু
উত্তরায় স্কচটেপ পেঁচিয়ে ডাকাতি, গৃহকর্ত্রী নিহত

উত্তরার দিয়াবাড়িতে স্কচটেপ পেঁচিয়ে ডাকাতি, গৃহকর্ত্রীর মৃত্যু

রাজধানী উত্তরার দিয়াবাড়িতে এক ভয়াবহ ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গৃহকর্ত্রীর মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে ও হাত-পা বেঁধে ডাকাতি চালানো হয়েছে, যার ফলে রেজিনা মমতাজ (৬৩) নামের ওই গৃহকর্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি সোমবার (২ মার্চ) রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে ডিএমপি তুরাগ থানাধীন উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর রোডের ১৫নং বাড়িতে সংঘটিত হয়।

ঘটনার বিবরণ

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়ির মালিক শাহ আলম প্রতিদিনের মতো তারাবির নামাজ আদায় করতে পার্শ্ববর্তী মসজিদে গেলে সেই সুযোগে মুখে মাস্ক পরিহিত ডাকাত দলের দুই সদস্য বাড়িতে ঢুকে ভবনটির ৩য় তলার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। তারা তার স্ত্রী রেজিনা মমতাজকে বেঁধে মালামাল লুট করে চলে যায়। নামাজ শেষে বাসায় ফিরে শাহ আলম ফ্ল্যাটের সবকিছু এলোমেলো ও স্ত্রীকে হাত-পা বাঁধা ও মুখে স্কচটেপ পেঁচানো অবস্থায় পান। তিনি তাকে উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিসিটিভি ফুটেজ ও সন্দেহভাজন

নিহতের ছেলে রাইসুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজে অপরিচিত দুজনকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওই সময় ৪র্থ তলার ভাড়াটিয়া বাড়ির দারোয়ানকে লন্ড্রিতে পাঠায় এবং দারোয়ানকে নিচের গেট খোলা রেখে যেতে বলে। গেট বন্ধ থাকলে ভেতর থেকে খুলে দেয়া ছাড়া কেউ ঢুকতে পারত না। এ ঘটনায় বাড়ির দারোয়ানসহ ৪র্থ তলার এক ভাড়াটিয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিবারের প্রতিক্রিয়া

রাইসুল ইসলাম বলেন, "আমার বাবা সোনালী ব্যাংকের একজন জিএম ছিলেন। সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে তিনি প্লটটি কিনে বাড়ি করেছিলেন। বাড়ির নির্মাণ কাজ এখনো চলছে। ভবনের তিনতলায় আমার বাবা-মা আর চারতলার ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া ছিলেন। আমি আমার মায়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"

পুলিশের তদন্ত

ঘটনার পরপরই ওই বাড়িতে তুরাগ থানা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআইসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থা নিতে দেখা গেছে। ডিএমপি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা উত্তরা এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আরও তথ্য উন্মোচনের চেষ্টা করা হচ্ছে।