রামপুরা গণঅভ্যুত্থান মামলায় রায় স্থগিতের আবেদন
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় একজনকে গুলি ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় না দিতে আবেদন জানিয়েছে প্রসিকিউশন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর রেজিস্ট্রারের কাছে এই আবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার তারিখে জটিলতা
জানা গেছে, এ মামলায় রায় ঘোষণার জন্য বুধবার (৪ মার্চ) দিন ধার্য রয়েছে। তবে কিছু জটিলতার কারণে রায় যেন না দেওয়া হয়, সেজন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। রামপুরার এ মামলায় তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে, যার মধ্যে একটি হলো গুলি করার নির্দেশদাতা পুলিশ কর্মকর্তার কল রেকর্ড পাওয়ার পরও তাকে আসামি করা হয়নি।
নতুন সাক্ষ্য ও তদন্তের প্রয়োজন
এ ছাড়া নতুন আরও সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এজন্য রায় পিছিয়ে দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম চালানো যেতে পারে, সেজন্যই এই আবেদনটি করা হয়েছে। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছিল। সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দিসহ নথিপত্রে পাঁচ আসামির সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেছিল প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হয়েছিল।
আসামিপক্ষের অবস্থান
আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও নিজেদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে বেকসুর খালাস চেয়েছেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল-১। এ মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আসামি পাঁচজন। এর মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার।
পলাতক আসামিদের তালিকা
পলাতক অন্য আসামিরা হলেন— খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। এ মামলায় হাবিবসহ পলাতক চারজনের পক্ষে লড়ছেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন।
ঘটনার পটভূমি
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের হামলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে থাকা একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন নামের এক তরুণ। ওই সময় পুলিশও তার পিছু পিছু যায়। একপর্যায়ে ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও তার ওপর ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন এক পুলিশ সদস্য। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন নাদিম ও মায়া ইসলাম।
মামলার আইনি অগ্রগতি
এ মামলায় ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এখন রায় স্থগিতের আবেদন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
