পাবনার সুজানগরে মুদি ব্যবসায়ী অপহরণ: মারধর করে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়
পাবনার সুজানগর পৌর বাজার এলাকা থেকে এক মুদি ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর মারধর করে মুক্তিপণ আদায়ের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. রিপন হোসেন নামের ওই ব্যক্তিকে রবিবার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় জোরপূর্বক অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা তাকে মারধর করে আহত করার পাশাপাশি মোট ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিবরণ
সুজানগর পৌর বাজারের ফুটপাতে মুদি ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহকারী রিপন হোসেন রবিবার সন্ধ্যায় তার ভাগিনা আলামিনকে সঙ্গে নিয়ে নন্দিতা সিনেমা হল মার্কেটের পাশে নিজের তেলের গোডাউনে তেল আনতে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত মো. সবুজ হোসেনসহ ৪ থেকে ৫ জনের একটি দল তাকে মারধর করে টেনে-হিঁচড়ে একটি মোটরসাইকেলে উঠিয়ে সুজানগর মহিলা ডিগ্রি কলেজের পিছনে একটি পরিত্যক্ত স্থানে নিয়ে যায়।
এই সময় অপহরণকারীরা রিপন হোসেনের কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করে তাকে আহত করে। পরে অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রিপনের পিতা সিদ্দিক প্রামানিককে ডেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ছেলেকে মুক্ত করতে গিয়ে সিদ্দিক অপহরণকারীদের আরও ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। মুক্তিপণ দেওয়ার পর রাত ৯টার দিকে অপহরণকারীরা রিপন হোসেনকে ছেড়ে দেয়।
আতঙ্ক ও ক্ষোভের পরিবেশ
এই ঘটনার পর থেকে সুজানগর পৌর বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অপহৃত ব্যবসায়ী রিপন হোসেন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশি তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা
ঘটনার পর রিপন হোসেন বাদী হয়ে মো. সবুজ হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করে সুজানগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত সবুজ সুজানগর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকার মৃত কসিম উদ্দিনের ছেলে। তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
পাবনা সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) সাদিক আহমদ ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, "অপহৃত ব্যবসায়ী এ ব্যাপারে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার আদ্যোপান্ত পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা এই অপহরণ ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা বলছেন, এমন ঘটনা এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে নষ্ট করছে এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলেছে। অনেকেই দাবি করেছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।
এই ঘটনা পাবনা জেলার সাম্প্রতিক সময়ের উল্লেখযোগ্য অপরাধমূলক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
