ফরিদপুরে জুটমিলে কিশোর শ্রমিক হত্যা: র্যাব গ্রেফতার করেছে মূল অভিযুক্ত রিহাত শেখকে
ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ডোবরা এলাকায় অবস্থিত আকিজ-বশির জনতা জুটমিলে এক কিশোর শ্রমিককে পায়ুপথে উচ্চচাপের বাতাস প্রবেশ করিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রিহাত শেখ ওরফে হাকিমকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় র্যাবের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১০-এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার তারিকুল ইসলাম।
গ্রেফতারের বিস্তারিত বিবরণ
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানা এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত রিহাত শেখ ওরফে হাকিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রামনগর গ্রামের বাসিন্দা। নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বোয়ালমারী থানার সাতৈর ইউনিয়নের ডোবরা গ্রামে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি ও বিক্ষোভ
এই ঘটনার শিকার কিশোর শ্রমিক সজিব শরীফের (১৩) বাড়ি দাদপুর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামে। সে ডোবরা এলাকায় অবস্থিত জনতা জুটমিলে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিল। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দাদপুর গ্রামের কয়েক শ মানুষ জুটমিলের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হত্যাকাণ্ডের নির্মম বিবরণ
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, সোমবার রাত ১০টার দিকে আকিজ-বশির জনতা জুটমিলে কর্মরত শ্রমিক মো. সজিব শরীফ কাজ শেষে কম্প্রেসার মেশিনের হাওয়াই পাইপ দিয়ে শরীর পরিষ্কার করছিল। এই সময় অভিযুক্ত রিহাত শেখ ও তার এক সহযোগী মিলে ভিকটিমের পায়ুপথে কম্প্রেসার মেশিনের উচ্চচাপের বাতাস প্রবেশ করায়। এতে ভিকটিমের পেট ফুলে যায় এবং সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর অভ্যন্তরীণ আঘাতে ভিকটিমের অন্ত্র একাধিক স্থানে ছিদ্র হয়ে যায় এবং অস্ত্রোপচার করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় বুধবার বোয়ালমারী থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত কিশোরের বাবা।
র্যাবের তদন্ত ও পদক্ষেপ
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রিহাত শেখ আত্মগোপনে ছিল। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান আছে। র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের নৃশংস ও অমানবিক অপরাধের বিরুদ্ধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে।
এই ঘটনা শিশু শ্রম ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরেছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায় ও কর্তৃপক্ষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
