শহীদ সেনা দিবসে শফিকুর রহমানের বক্তব্য: পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি
শহীদ সেনা দিবসে শফিকুর রহমানের বক্তব্য: পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি

শহীদ সেনা দিবসে শফিকুর রহমানের তীব্র অভিযোগ: পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান আজ বুধবার দুপুরে ‘শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত ও দোয়া-মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের সামনে এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে দেশের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করার তীব্র সমালোচনা

শফিকুর রহমান দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের পর দুটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল—একটি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এবং অন্যটি তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে। তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, ওই দুই তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর মতে, তখন যাঁরা ক্ষমতায় ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের গভীর সম্পর্ক থাকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, “প্রতিবেদন সামনে এলে হয়তো অনেক সত্য পরিষ্কার হয়ে যেত।”

জামায়াতের আমির আরও উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল, কিন্তু সেই প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়নি। তিনি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারিগর, পরিকল্পনাকারী ও উৎসাহদাতাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বলেন, “বর্তমান সরকার যদি বিচার নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে জাতির কিছু দায়মোচন হবে। তা না হলে এটি সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে।”

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি ও অন্যান্য অভিযোগ

শফিকুর রহমান বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ছিল জাতির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের দিন। যাঁদের হত্যা করা হয়েছে, তাঁদের পরিকল্পিতভাবে সেখানে পোস্টিং দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। কারও এক মাস আগে, কারও তিন মাস আগে বদলি করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনো জাতির সামনে পুরোপুরি খোলাসা হয়নি।

তিনি ওই সময় দুটি নোংরা ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। হত্যাকাণ্ডের পর বিরোধী দলকে টার্গেট করে নানা বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। আর জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন নেতা আবদুর রাজ্জাককে দুই দফা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হয়েছিল। শফিকুর রহমান বলেন, নাসিরউদ্দিন পিন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল যে তিনি নৌকায় করে লোক পার করে দিয়েছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেওয়া হয় এবং সেখানে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে তাঁর দাবি।

সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ

জামায়াতের আমির আরও বলেন, তৎকালীন সরকার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যর্থতা নয়, বরং এটি ছিল পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের একটি অধ্যায়। কর্নেল গুলজার সদর দপ্তরে একাধিকবার ফোন করে উদ্ধারে সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু জীবন বাঁচাতে যায়নি দাবি করে তিনি বলেন, তৎকালীন সেনাপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ কিংবা দুই বিশ্বযুদ্ধেও এক দিনে এত সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার নজির নেই। এটি ছিল নজিরবিহীন ঘটনা। শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য শহীদ সেনা দিবসের প্রেক্ষাপটে জাতীয় আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।