মানিকগঞ্জে চাঁদাবাজি: উথলী মোড়ে যানবাহন থেকে চাঁদা নেওয়ার সময় যুবক গ্রেপ্তার
মানিকগঞ্জে চাঁদাবাজি: উথলী মোড়ে যুবক গ্রেপ্তার

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে চাঁদাবাজি: উথলী মোড়ে যুবক হাতেনাতে গ্রেপ্তার

মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার উথলী-পাটুরিয়া সংলগ্ন এলাকায় যানবাহন থেকে চাঁদা আদায়ের সময় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ উথলী মোড় থেকে সুব্রত কুমার বিশ্বাস (৩০) নামে এই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত যুবকের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ

গ্রেপ্তারকৃত সুব্রত কুমার বিশ্বাস শিবালয় উপজেলার বেলতা গ্রামের নিতাই বিশ্বাসের ছেলে। পরিবহন চালক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উথলী মোড়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, যেখানে বিভিন্ন পরিবহনের যানবাহন যাত্রী উঠানামার জন্য নিয়মিত থামে। চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা এই সুযোগে যানবাহন থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই বিষয়ে পরিবহন সমিতির পক্ষ থেকে পূর্বেই পুলিশকে অভিযোগ করা হয়েছিল। সর্বশেষ মঙ্গলবার চাঁদা আদায়ের সময় ঘটনাস্থল থেকে সুব্রতকে আটক করা হয়। পাটুরিয়া ঘাটে ‘সেলফি পরিবহন’ মালিক সমিতির লাইন সুপারভাইজার সুলতান হোসেন জানান, “উথলী মোড়ে পরিবহনের নিজস্ব কর্মীদের সরিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের সঙ্গে যুক্ত সুব্রত’র বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ দিয়েছি। মঙ্গলবার পুলিশ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে। এসময় আরও কয়েকজন সন্দেহভাজন পালিয়ে যায়।”

পুলিশের বক্তব্য ও চলমান তদন্ত

শিবালয় থানার ওসি মনির হোসেন এই ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, “সুব্রতকে আসামি এবং কয়েকজনে অজ্ঞাত আসামি করে এই ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। সমিতির নেতাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা অভিযান চালিয়ে চাঁদা আদায়ের সময় সুব্রতকে হাতেনাতে আটক করেছি। অভিযুক্ত বাকিদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, উথলী মোড়ে চাঁদাবাজির এই ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলছিল, যা স্থানীয় পরিবহন চালক ও মালিকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সমিতির পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ করার পর পুলিশ সক্রিয় হয়ে এই অভিযান চালায়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য সন্দেহভাজনদের ধরতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

এছাড়াও, স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই এলাকায় চাঁদাবাজির ঘটনা আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল, যা যানবাহন চলাচল ও নিরাপত্তাকে ব্যাহত করছিল। পুলিশের এই পদক্ষেপকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং আশা করছেন যে ভবিষ্যতে এমন অপরাধমূলক কার্যকলাপ কমে আসবে।