বরিশালে আদালত বর্জন: আওয়ামী লীগ নেতার জামিনে আইনজীবীদের প্রতিবাদ, বিচার প্রার্থীদের দুর্ভোগ
বরিশালে আদালত বর্জন: জামিন নিয়ে আইনজীবীদের প্রতিবাদ

বরিশালে আদালত বর্জন: জামিন নিয়ে আইনজীবীদের তীব্র প্রতিবাদ

বরিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের জামিন মঞ্জুর করায় চিফ মেট্রোপলিটন আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের কার্যক্রম বর্জন করেছে জেলা আইনজীবী সমিতি। এই বর্জন কর্মসূচির ফলে সাধারণ বিচার প্রার্থীরা মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন, যা স্থানীয় ন্যায়বিচার ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি করেছে।

আদালত বর্জনের পটভূমি ও প্রতিবাদ কর্মসূচি

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই এই বর্জন কর্মসূচি পালন শুরু করেন আইনজীবীরা। তারা সিএমএম কোর্টের সামনে অবস্থান নিয়ে জোরালো বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বরিশাল জেলা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি হাফিজ আহমেদ বাবলু জানান, যেখানে বিস্ফোরক মামলায় সাধারণ মানুষকে জেলা জজ আদালত থেকে জামিন নিতে হচ্ছে, সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে নিম্ন আদালত থেকেই জামিন দেওয়া হচ্ছে। এই বৈষম্যমূলক আচরণই আইনজীবী সমিতির বর্জন কর্মসূচির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

জামিন প্রাপ্তি ও বিচারকের অপসারণ দাবি

গতকাল মঙ্গলবার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন পেয়ে চলে যান। এই ঘটনায় আইনজীবীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারকের অপসারণ দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, বিএনপি কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এক যুবককে হত্যার উদ্দেশে কুপিয়ে জখম করার মামলায় ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে আইনজীবী তালুকদার মো. ইউনুসকে আসামি করা হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। গতকালই তিনি প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে এসে জামিন লাভ করেন।

বিচার প্রার্থীদের দুর্ভোগ ও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

আইনজীবীদের আদালত বর্জন কর্মসূচির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিচার প্রার্থীদের উপর। তারা আইনি সহায়তা ও বিচার প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এ সময় চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের পিপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের এপিপি সাইদ মোর্শেদ মামুন, অতিরিক্ত পিপি আবুল কালাম আজাদ ইমন, অতিরিক্ত পিপি নুরুল হক দুলালসহ বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের এই সম্মিলিত অবস্থান স্থানীয় আইনজীবী সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদেরই প্রতিফলন।

এই ঘটনা বরিশালের ন্যায়বিচার ব্যবস্থায় একটি গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে রাজনৈতিক প্রভাব ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের আইনি অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে। আইনজীবী সমিতির এই বর্জন কর্মসূচি কতদিন চলবে এবং এর ফলে আদালতের কার্যক্রম কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা এখনই স্থানীয় জনগণের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।