দক্ষিণখানে নির্মাণ কাজে বাধা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ, থানায় তদন্ত চলছে
দক্ষিণখানে নির্মাণ কাজে বাধা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

দক্ষিণখানে নির্মাণ কাজে বাধা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ, থানায় তদন্ত চলছে

ঢাকার দক্ষিণখান এলাকায় একটি নির্মাণ কাজে বাধা এবং তিন লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি মো. মোখলেছুর রহমান (৫৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা হয়েছে। ভুক্তভোগী জমির মালিক শান্তনা রহমান ইতিমধ্যে দক্ষিণখান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ঘটনার বিবরণ

গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে দক্ষিণখান থানার নিকটবর্তী ডিএনসিসির ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফায়দাবাদ গণকবরস্থান এলাকার বাজারের পাশে নিজের মালিকানাধীন জমিতে ঠিকাদারকে নিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করতে যান শান্তনা রহমান। এই সময় ঘটনাস্থলে এসে মোখলেছুর রহমান নিজেকে জমির কথিত মালিক দাবি করে নির্মাণ কাজে বাধা দেন। তিনি শান্তনা রহমানের কাছে তিন লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং অন্যথায় শান্তনা রহমান ও তার স্বামীকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও অতীত ঘটনা

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, মোখলেছুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জমি কেনাবেচায় জড়িত। গত কয়েক বছর ধরে তিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আত্মীয়-স্বজন পরিচয় দিয়ে আশপাশের জমির মালিকদের সঙ্গে বিবাদে জড়াচ্ছেন। এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন যে মোখলেছুরের এমন কর্মকাণ্ডে তারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

একটি উদাহরণ হিসেবে, কাউসার আলম নামের এক জমির মালিক যুগান্তরকে জানান, ২০ বছর আগে মোখলেছুরের মধ্যস্থতায় জমি কেনার পর তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তিনি বলেন, "মোখলেছুর আমাকে জমি কিনে দিয়েছিল, কিন্তু কয়েক মাস পর জমিতে ঝামেলা আছে জানিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার ভয় দেখায়।"

জমির কাগজপত্র ও বিএনপির বক্তব্য

ভুক্তভোগী শান্তনা রহমানের কেনা জমির কাগজপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ মৌজার ওই জমি কেনাবেচার সময় মো. মোখলেছুর রহমান নিজেই স্বাক্ষী ছিলেন। দলিলে তার পিতা-মাতার নামসহ তার স্বাক্ষরও রয়েছে।

সূত্রমতে, মোখলেছুর বর্তমানে নিজেকে ক্ষমতাসীন বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীর আত্মীয়-স্বজন পরিচয়ে আশপাশের জমির মালিকদের হয়রানি করছেন। তবে স্থানীয় বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি যুগান্তরকে জানিয়েছেন, মোখলেছুর বিএনপির কেউ নন এবং কোনো বিএনপি নেতার আত্মীয়-স্বজন পরিচয় দিয়ে অপকর্ম করলে এর দায় তাকেই নিতে হবে।

অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া ও থানার অবস্থান

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মোখলেছুর রহমানের মোবাইলে একাধিক বার ফোন দেওয়া হলেও তিনি প্রতিবেদকের ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও বার্তায় তিনি নিজেকে জমির ১৯৫১ সালের মালিক দাবি করে বলেন, "আমি জমির বায়নাকৃত মালিক। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। প্রকৃত মালিক যদি আমি হই তাহলে আমি জমি পাব, আর না হলে আমার কোনো দাবি নেই।" তবে স্থানীয় বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ ব্যাপারে দক্ষিণখান থানার ওসি মো. শরীফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, "এ সংক্রান্ত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব। জমিজমার বিষয় হলে অবশ্যই কাগজপত্রের দৃষ্টিতে সবাইকে কথা বলতে হবে। আমরা এলাকার নিরাপত্তা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সচেষ্ট আছি।"

সোমবার দুপুরে অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা ওসি শরীফুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। এখন পর্যন্ত থানার পক্ষ থেকে তদন্ত কার্যক্রম চলছে এবং এলাকাবাসী ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছেন।