উচ্চ আদালতের জরুরি নির্দেশ: পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের মুখ সিল করতে হবে তিন মাসের মধ্যে
দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের খোলা মুখে পড়ে একাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিন মাসের মধ্যে সব পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের খোলা মুখ সিল করার নির্দেশ দিয়েছে। সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ জারি করেন।
রিট আবেদনের প্রেক্ষাপট ও আদালতের শুনানি
আদালতে রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন। তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের খোলা মুখে পড়ে শিশু মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশিত সংবাদপত্রের ক্লিপিং সংযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আবেদনটি জমা দেন। শুনানিতে আইনজীবী মনির উদ্দিন পিটিশনারের পক্ষে অবস্থান নেন। আদালতের নির্দেশে স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই আদেশ বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছে।
শিশু মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনাগুলো
আইনজীবী মনির উদ্দিন তার রিট আবেদনে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক শিশু মৃত্যুর ঘটনার উল্লেখ করেন। ২০১৪ সালে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে একটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপে পড়ে শিশু জিহাদের মৃত্যু ঘটে, যা সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এরপর ডিসেম্বর ২০২৫ সালে রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলায় পরিত্যক্ত গভীর নলকূপে পড়ে শিশু সাজিদের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ এ বছরের ২৮ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলায় আরেকটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপে পড়ে শিশু মিসবাহের মৃত্যু ঘটে।
আদালতের নির্দেশনা ও করণীয়
উচ্চ আদালতের এই নির্দেশে স্থানীয় সরকার বিভাগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আদালতের মতে, পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের খোলা মুখগুলো শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে, যা অবিলম্বে দূর করা প্রয়োজন। তিন মাসের সময়সীমার মধ্যে দেশের সব পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের মুখ সিল করতে হবে বলে আদালত জোর দিয়েছেন।
এই নির্দেশ বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে জরিপ চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নলকূপ চিহ্নিত করতে হবে এবং সেগুলো দ্রুত সিল করার ব্যবস্থা নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য আদালতের এই আদেশ একটি জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
