সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের মন্তব্য: রাজনৈতিক সরকারের নিয়োগ স্বাভাবিক, বিচার অব্যাহত থাকুক
তাজুল ইসলাম: রাজনৈতিক সরকারের নিয়োগ স্বাভাবিক, বিচার অব্যাহত থাকুক

সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের বক্তব্য: রাজনৈতিক নিয়োগ স্বাভাবিক, বিচার অব্যাহত রাখার আহ্বান

সদ্য সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক সরকার যখন নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন রাষ্ট্রের বিভিন্ন পদে তারা তাদের পছন্দনীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেবে, এটাই একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন, তার নিয়োগ বাতিল হওয়ার পরপরই।

নব নিয়োগপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটরকে স্বাগত জানানো

তাজুল ইসলাম নব নিয়োগপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, 'এই বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহতভাবে সামনে অগ্রসর হবে। রাজনৈতিক সরকার যখন নতুন দায়িত্ব নেয়, স্বাভাবিকভাবে রাষ্ট্রের বিভিন্ন যায়গায় তারা তাদের পছন্দনীয় লোকজনকে বসাবে, এটা হচ্ছে স্বাভাবিক নিয়ম। তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা আছে, তারা নিশ্চয়ই সেই অনুযায়ী বসে আছে।'

তিনি আরও যোগ করেন, 'আমার পক্ষ থেকে তাদের জন্য শুভকামনা থাকবে, সহযোগিতা থাকবে, পরামর্শ দরকার হলে আমি দেব এবং একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে চাইব, যে বিচার প্রক্রিয়া চলমান আছে সেটা যেন অবশ্যই অব্যাহত থাকে।'

অপরাধ পুনরাবৃত্তি রোধে জোর দেওয়া

তাজুল ইসলাম বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে এই অপরাধগুলো যাতে পুনরায় আর কখনো সংঘটিত হতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি ব্যাখ্যা করেন, 'বাংলাদেশে বিচারের পরে এমন একটা পরিবেশ হোক, যাতে এই একই ধরনের অপরাধ বাংলাদেশে আর ফিরে না আসে। কারণ আমরা আর ওই ধরনের অপরাধকে আর অ্যাফোর্ড করতে পারব না। আবার গুম হয়ে যাবে, যখন-তখন ধরে নিয়ে যাবে, হত্যা করবে, পুলিশ নির্বিচারে গুলি করে মানুষ মারবে। এইরকম দিন আমরা আর দেখতে চাই না। সেই কারণে সবাই মিলে আমরা কাজ করেছি।'

টিমমেট ও তদন্ত সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তার সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, 'আমি হ্যাপি আমার টিমমেটদের প্রতি, তদন্ত সংস্থার প্রতি, আমার টিমমেট প্রত্যেকেই তার জায়গা থেকে অবদান রাখার চেষ্টা করেছেন।' তিনি দায়িত্ব পালনকালে তার দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং বিচার ব্যবস্থার উন্নতির জন্য তাদের ভূমিকা স্বীকার করেন।

তাজুল ইসলামের এই বক্তব্য বাংলাদেশের আইন বিভাগ ও বিচার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে, যেখানে তিনি রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় নিয়োগের স্বাভাবিকতা এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে জোর দিয়েছেন।