তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ
রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী ইকরাম হোসেন মোল্লা হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পরিচয়
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামি হলেন মো. সিদ্দিক ও মো. শান্ত মিয়া। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানান, আসামি সিদ্দিককে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল এবং রায় ঘোষণার পর তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, আসামি শান্ত মিয়া বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পটভূমি ও বিচার প্রক্রিয়া
তেজগাঁও কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ইকরাম হোসেন মোল্লা। তিনি পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় বসবাস করতেন। ২০২৩ সালের ৪ মে ইকরাম বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন এবং চার দিন পর তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ পরীক্ষায় তাঁর মাথা, কপালসহ শরীরের একাধিক জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ইকরামের বাবা খিলক্ষেত থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে যে, আসামি সিদ্দিক ও শান্ত মিয়া বালুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ইকরাম তাঁদের কাছ থেকে টাকা পেতেন। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ইকরামকে মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর পুলিশ দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরের বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচারকার্য চলাকালে মোট ২৭ সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আদালতের রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অপরাধের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ জারি করা হয়েছে।
এই মামলাটি শিক্ষার্থী নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের রায়ে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বার্তা প্রতিফলিত হয়েছে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।
