কামরাঙ্গীরচরে তরুণী ধর্ষণ মামলায় চার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকার আশ্রাফাবাদে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে চারজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।
আসামিদের শাস্তি ও জরিমানা
দণ্ডিত চারজন আসামি হলেন শহিদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, নিজাম এবং মনির হোসেন ওরফে সেন্টু। ট্রাইব্যুনাল প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করার পাশাপাশি নির্দেশ দিয়েছে যে, এই অর্থ অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রসিকিউটর এরশাদ আলম (জর্জ) সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আসামিদের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
পলাতক আসামি ও কারাগারে প্রেরণ
আসামিদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। বাকি তিন আসামি আদালতে হাজির ছিল এবং রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলার পর চূড়ান্ত রায় এসেছে, যা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মামলার পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ওই তরুণী তার এক বান্ধবীর সঙ্গে কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদে ময়দার মিলের পার্শ্বে নৌকা ঘাটে বেড়াতে যায়। একপর্যায়ে বান্ধবী তাকে রেখে বাসায় চলে যান, এবং এরপর পৌনে ৭টার দিকে আসামিরা জোরপূর্বক তাকে একটি নৌকায় উঠিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে যায়।
নদীতে মাঝিকে ফেলে দিয়ে আসামিরা নৌকার মধ্যে পালাক্রমে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে। পরে তারা ভুক্তভোগীকে একটি বাড়ির রুমে তালাবদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে তরুণীর বাবা-মা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে, ভুক্তভোগী বাদী হয়ে নিজেই থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া
মামলাটি তদন্ত করে ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম শিকদার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে এবং আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়।
এই রায় নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরছে। আশা করা যায়, এটি ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে ভূমিকা রাখবে।
