পাবনার সাঁথিয়ায় মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে বৃদ্ধ আব্দুল গফুরকে পিটিয়ে হত্যা, তিনজন আটক
মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে পাবনায় বৃদ্ধ হত্যা, তিনজন আটক

পাবনার সাঁথিয়ায় মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে বৃদ্ধ আব্দুল গফুরকে পিটিয়ে হত্যা

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক নির্মম হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় আব্দুল গফুর নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় নারীসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার খয়েরবাড়িয়া গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও শোকের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

নিহত আব্দুল গফুর (৮০) উপজেলার খয়েরবাড়িয়া গ্রামের মৃত কছির প্রামানিকের ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বরাতে জানা যায়, গ্রামের এরাদ আলীর ছেলে আলিম ফকির দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও জুয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে সম্প্রতি, একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মানিক (৪০) এবং তালেব মেম্বারের ছেলে ময়েন (৪৫) পৃথকভাবে মাদক ব্যবসা শুরু করে আলিম ফকিরের ব্যবসায় ভাগ বসানোর চেষ্টা করছেন।

এই ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নেয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে, প্রতিপক্ষের লোকজন আব্দুল গফুরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে সাথিয়া উপজেলা হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও, পথেই তার মৃত্যু হয়, যা এলাকাবাসীকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।

পুলিশের তৎপরতা ও গ্রেপ্তার

ঘটনার পর পুলিশ তৎক্ষণাৎ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন তালেবের ছেলে ময়েন মোকছেদ, মোকছেদের ছেলে সজীব এবং রুবিয়া নামক এক নারী। সাঁথিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদক ব্যবসা ও পূর্ববর্তী বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনায় এক নারীসহ মোট তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং মরদেহ পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যা অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব

এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয় সম্প্রদায়ে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীরা মাদক ও জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধির বিস্তার এবং এর ফলে সৃষ্ট সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও, মাদক ব্যবসা রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এই ঘটনা পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে মাদক ও জুয়ার প্রভাব সম্পর্কে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের উপর এখন চাপ তৈরি হয়েছে, যাতে এই ধরনের অপরাধ দমন করে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায়।