হাদি হত্যা মামলায় সিআইডির প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থতা, আদালত আরও ৭ দিন সময় দিলেন
হাদি হত্যা মামলায় সিআইডির প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থতা

হাদি হত্যা মামলায় সিআইডির প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থতা, আদালত আরও ৭ দিন সময় দিলেন

শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) মামলার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য থাকলেও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঁঞা আদালতে হাজির হয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি।

আদালতের নতুন নির্দেশনা

এ অবস্থায় ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহ সিআইডিকে আরও ৭ দিন সময় দিয়েছেন। আদালত ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন। এই সময়সীমা অতিক্রম করলে সিআইডির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে আদালত সতর্ক করেছেন।

মামলার পটভূমি ও তদন্তের ইতিহাস

হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া বেশ জটিল ও বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। কিন্তু মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে নারাজি দাখিল করেন।

পরবর্তীতে আদালত মামলাটির তদন্তভার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করেন। সিআইডি তদন্ত শুরু করেই প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফয়সাল রুবেল আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। দুই দফায় ১২ দিনের রিমান্ড শেষে রুবেল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

হাদির রাজনৈতিক পরিচয় ও হত্যাকাণ্ড

জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া শরীফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগ করতে গিয়ে তিনি নির্মম হামলার শিকার হন।

চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় হাদিকে গুলি করে চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়, পরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুদিন পর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মামলার আইনি প্রক্রিয়া

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। পরে মামলায় হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। শুরুতে থানা পুলিশের কাছে মামলার তদন্ত থাকলেও পরে তা ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ পাঁচজন এখনো পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আসামিদের তালিকা

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লিখিত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন:

  • ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭)
  • তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) ও মা হাসি বেগম (৬০)
  • স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪) ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭)
  • বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১)
  • মো. কবির (৩৩) ও মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪)
  • ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে সিবিয়ন দিউ (৩২) ও সঞ্জয় চিসিম (২৩)
  • মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭)
  • হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫)
  • মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬)
  • সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী
  • ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২)
  • মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)

এই তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে এবং সিআইডির নতুন সময়সীমার মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।