আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম যেন বাধাগ্রস্ত না হয়: আখতার হোসেনের জোরালো আহ্বান
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন সরকারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং নিজের সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে এসে তিনি সাংবাদিকদের সামনে এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
বিএনপি সরকারের প্রতি সরাসরি আহ্বান
আখতার হোসেন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "বিএনপির সরকারের কাছে, সরকার দলের কাছে আমরা বিনীত কণ্ঠে আহ্বান জানাব— কোনোভাবেই যেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারের গতি মন্থর না হয়ে যায়। ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না হয়।" তিনি আরো যোগ করেন যে ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ধরনের কারিগরি সহায়তা প্রদান করতে নির্বাচিত সরকার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
তার মতে, কোনোভাবেই যেন এই বিচার বাধাগ্রস্ত না হয় এবং বিচারের যতগুলো রায় ইতিমধ্যে হয়েছে, সেগুলো যেন অবিলম্বে কার্যকর করা হয়, সে ব্যাপারে সরকারকে সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এই বিষয়টি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
বিএনপির দোদুল্যমানতা নিয়ে গভীর শঙ্কা
ট্রাইব্যুনালের বিচার বাধাগ্রস্ত হতে পারে, এমন কোনো সন্দেহ করছেন কি না জানতে চাইলে আখতার হোসেন বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, "এবারের নির্বাচন একই সঙ্গে দুইটি নির্বাচন ছিল— একটি সংসদ সদস্যদের নির্বাচন, অপরটি গণভোটের নির্বাচন।" তিনি উল্লেখ করেন যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন সংবিধানে সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও জাতির প্রয়োজনে এটি গঠিত হয়েছে এবং বিএনপির এই বিষয়ে কোনো আপত্তি ছিল না।
তবে তিনি বিএনপির সরকারের দোদুল্যমান মনোভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আখতার বলেন, "বিএনপির কাছে যে বিষয়টা তাদের ক্ষমতা গ্রহণের জন্য পছন্দসই, তারা শুধু ততটুকু মানবেন। আর যেটা তাদের ক্ষমতাকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসতে পারে, সেই অংশগুলোকে তারা বাদ দিয়ে দিবেন।" তিনি দৃঢ়ভাবে মত প্রকাশ করেন যে এই ধরনের মনোভাব প্রথম দিন থেকেই প্রকাশ পেয়েছে এবং এজন্য সংস্কারের বিষয় নিয়ে বিএনপির সরকার নিয়ে একটি শঙ্কার জায়গা তৈরি হয়েছে।
সংবিধান সংস্কার ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
আখতার হোসেন বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন যে শুরুতেই সংস্কারের বিপক্ষে বিএনপির অবস্থান ছিল এবং সংস্কার কমিশনেও তারা সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, "তারা যখন হ্যাঁ এবং না ভোটের ক্যাম্পেইন চালাচ্ছিল, ছাত্রদল অফিসিয়ালি তাদের অফিসিয়াল পেইজে না ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে। তাদের বুদ্ধিজীবীরা না ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে এবং শেষে গিয়ে জনচাপে পড়ে তারেক রহমান রংপুরে গিয়ে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।"
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে 'ওভারটেক' বিএনপি করতে পারবে না" এবং তাদের জল ঘোলা করার প্রবণতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত জনচাপে বাধ্য হয়েই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে তারা বাধ্য হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
ট্রাইব্যুনালে আসার মূল উদ্দেশ্য
আখতার হোসেন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে সংস্কারের বিষয়ে বিএনপির সরকারের যে দোদুল্যমানতা রয়েছে, সেই দোদুল্যমানতার ছোঁয়া যেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে না আসে, সেটি নিশ্চিত করাই তার ট্রাইব্যুনালে আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল। তিনি বলেন, "সেই বিষয়টা তাদের জানানোর জন্য, সেই খোঁজখবরগুলো নেওয়ার জন্যই আমি ট্রাইব্যুনালে এসেছিলাম।"
তিনি সরকারকে স্মরণ করিয়ে দেন যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এতে কোনো ধরনের বাধা বা দেরি জাতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সরকারের উচিত এই বিচার প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে নেওয়া এবং সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করা।
