জামালপুরে রিকশাচালক অপহরণ মামলার ১৩ বছর পর দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
জামালপুরে অপহরণ মামলার ১৩ বছর পর দুই আসামির যাবজ্জীবন

জামালপুরে রিকশাচালক অপহরণ মামলার ১৩ বছর পর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জামালপুরে রিকশাচালক মজনু মিয়া অপহরণ মামলার দীর্ঘ ১৩ বছর পর দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

মামলার বিস্তারিত ঘটনা ও তদন্ত প্রক্রিয়া

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২০১২ সালের ১২ জুন মজনু মিয়া ইসলামপুরের নিজ বাড়ি থেকে রিকশা নিয়ে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। ঘটনার পরবর্তী পর্যায়ে অপরিচিত একটি নাম্বার থেকে ফোন করে তার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয় এবং ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় ওই বছরের ১৭ জুন মজনু মিয়ার বাবা খালেক মিয়া বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশের তদন্তে পরবর্তীতে আসামি সেলিম ইসলাম ও সোহেলের সম্পৃক্ত থাকার সত্যতা পাওয়া যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের অপরাধের ভূমিকা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।

আদালতের রায় ও আসামিদের পরিচয়

আদালতের রায়ে আসামি সেলিম ইসলামের উপস্থিতিতে রায় প্রদান করা হয়, অন্যদিকে আসামি সোহেল মিয়া পলাতক রয়েছেন বলে জানানো হয়। সাজাপ্রাপ্ত সেলিম ইসলামের বাড়ি দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জের দিস্তাপাড়া গ্রামে এবং সোহেল ইসলামপুর উপজেলার চন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা।

এই মামলাটি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বিচারাধীন ছিল, যা স্থানীয়ভাবে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইনজীবী ফজলুল হক আরও উল্লেখ করেন যে, মামলার সকল প্রমাণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সতর্কতার সাথে পর্যালোচনা করার পরেই এই কঠোর রায় প্রদান করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করবে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।