ওবায়দুল কাদেরের মামলায় শরিফ ওসমান হাদির জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে নেওয়ার আবেদন
ওবায়দুল কাদের মামলায় শরিফ ওসমান হাদির জবানবন্দি সাক্ষ্য আবেদন

ওবায়দুল কাদেরের মামলায় শরিফ ওসমান হাদির জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে নেওয়ার আবেদন

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। তার এ জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে নেওয়ার জন্য প্রসিকিউশন আবেদন করেছে।

আবেদনের বিস্তারিত তথ্য

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বরাবর এ আবেদন করে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ওবায়দুল কাদেরের মামলায় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ শরিফ ওসমান হাদি। তার সেই জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে।”

মামলার অন্যান্য আসামিদের তালিকা

ওবায়দুল কাদের বাদে এ মামলার আসামিরা হলেন:

  • আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম
  • সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত
  • যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ
  • সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল
  • ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন
  • সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান

মামলার সাম্প্রতিক অগ্রগতি

এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। এদিন প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ আসিফ ইকবালের বাবা এম এ রাজ্জাক। সেদিন তার সাক্ষ্য শেষ না হওয়ায় পরবর্তী দিন অবশিষ্ট জবানবন্দি নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

মামলার পূর্ববর্তী ঘটনাপ্রবাহ

গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। আর ১৮ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ। গত ৮ জানুয়ারি পলাতক আসামিদের পক্ষে দু’জন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত।

অভিযোগের মূল বিবরণ

প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।