ধানমন্ডির জোড়া খুন মামলায় গৃহকর্মী সুরভীর মৃত্যুদণ্ড, সহযোগী বাচ্চু খালাস
জোড়া খুন মামলায় গৃহকর্মীর মৃত্যুদণ্ড, সহযোগী খালাস

ধানমন্ডির জোড়া খুন মামলায় গৃহকর্মী সুরভীর মৃত্যুদণ্ড, সহযোগী বাচ্চু খালাস

রাজধানীর ধানমন্ডিতে গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগম ও গৃহকর্মী দিতি খুনের দায়ে গৃহকর্মী সুরভী আক্তার নাহিদাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তার মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এই রায় ঘোষণা করেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আফরোজা বেগমের বাসার কর্মী বাচ্চু মিয়া খালাস পেয়েছেন।

আদালতের রায়ের বিস্তারিত বিবরণ

সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রসিকিউটর মাহফুজ হাসান জানিয়েছেন, সুরভী আক্তার নাহিদাকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও পাঁচ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার আগে দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে সুরভীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে তাকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার পেছনের ঘটনা ও সময়সূচি

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলার রায়ের দিন ধার্য ছিল, কিন্তু রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তা পিছিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি রাখা হয়। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ধানমন্ডি ২৮ নম্বর রোডে অবস্থিত লোবেলিয়া অ্যাপার্টমেন্টের ই-৫ ফ্ল্যাটে থাকতেন বৃদ্ধা আফরোজা বেগম। তার দেখভাল করতেন গৃহপরিচারিকা দিতি। টানা ১০ বছর ধরে ভবনটির দেখভাল করতেন মো. বাচ্চু মিয়া, যিনি দীর্ঘদিনের সম্পর্কে বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন।

খুনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন

বাচ্চু মিয়া নতুন গৃহকর্মী সুরভী আক্তার নাহিদাকে নিয়ে আফরোজা বেগমের বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কার লুটের পরিকল্পনা করে। ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর ওই বাসায় স্বর্ণালঙ্কার লুটের ঘটনায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ছুরিকাঘাত করা হয় গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগমকে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হত্যার এই দৃশ্য দেখে ফেলায় কাজের মেয়ে দিতিকেও খুন করা হয়। আদালতের রায়ে এই ঘটনার প্রমাণ অনুযায়ী সুরভীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, যখন বাচ্চুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে রেহাই দেওয়া হয়েছে।