সনি র্যাংগসের এমডি একরাম হোসেনসহ তিনজনের বিদেশযাত্রায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা
সনি র্যাংগসের এমডি একরাম হোসেনসহ তিনজনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

সনি র্যাংগসের এমডি একরাম হোসেনসহ তিনজনের বিদেশযাত্রায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা

ইলেকট্রনিকস পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সনি র্যাংগস (র্যাংগস ইলেকট্রনিকস লিমিটেড)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক একরাম হোসেনসহ তার পরিবারের তিন সদস্যের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন।

নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকা

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন:

  • সনি র্যাংগসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একরাম হোসেন
  • একরাম হোসেনের ভাই ও ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) বিনাস হোসেন
  • একরাম হোসেনের পিতা সাচিমি ওগাওরা হোসেন

দুদকের অভিযোগ ও আবেদনের বিবরণ

দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. আল আমিনের করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সনি র্যাংগসের এমডি ও ডিএমডির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গোপন অনুসন্ধান ও অভিযোগ থেকে জানা গেছে, আসামিরা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নামে দেশে ও বিদেশে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিদ্যমান।

দুদকের দাবি অনুযায়ী, আসামিরা এসব সম্পদ বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তর করার চেষ্টা করছেন এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এই সম্পদ রক্ষা এবং অপরাধের আলামত সংরক্ষণের স্বার্থে তাদের বিদেশযাত্রা ঠেকানো একান্ত প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। আদালত দুদকের যুক্তি গ্রহণ করে এই তিনজনের বিদেশ গমনের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা কার্যকর করার কথা বলেন।

আদালতের সিদ্ধান্তের প্রভাব

এই নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে আসামিদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রোধ করা হয়েছে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এটি দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করতে সহায়তা করবে এবং অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অপরাধের মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে। আদালতের এই সিদ্ধান্তটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দমনে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।