লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অটোচালক হত্যা মামলায় চার আসামি গ্রেফতার, পলাতকদের তালিকায় বিদেশগামী সন্দেহ
অটোচালক হত্যা মামলায় চার আসামি গ্রেফতার, পলাতকদের তালিকা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অটোচালক হত্যা মামলায় চার আসামি গ্রেফতার

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় অটোরিকশা চালক সোহাগ হোসেন (২৭) হত্যা মামলায় চারজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে এবং রবিবার রাতে উপজেলার রাখালিয়া গ্রাম থেকে এই গ্রেফতার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন নজির (৪৮), হৃদয় (২২), সুজন ও আরাফাত (২৫)।

মামলার পটভূমি ও অভিযোগ

রবিবার সকালে নিহত সোহাগ হোসেনের বড় ভাই রাজিব হোসেন রায়পুর থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে মোট সাতজন আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যারা হলেন সোনাপুর ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী চরবগা গ্রামের নজির, হৃদয়, মুরাদ (৩০), আরাফাত, শাহিন (২৬), রাব্বি (২৬) ও সুজন। তাদের বিরুদ্ধে জুয়াড়ি ও মাদকসেবী হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসামি আরাফাত আগামী রবিবার বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে তার গ্রেফতারের পর পাসপোর্ট ও ছবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও তদন্ত

শনিবার দুপুরে রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের পাটোয়ারী রাস্তার মাথা এলাকায় আবদুর রব পাটোয়ারীর বাড়ির হেলাল পাটোয়ারীর কলার বাগানে সোহাগ হোসেনকে হত্যা করা হয়। নিহত সোহাগ ছিলেন ওই এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে এবং তার স্ত্রী শাহিনুর বেগম বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রয়েছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের রাত থেকে সোহাগকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাদের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। তবে সোহাগ তার এলাকার কিছু মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের সঙ্গে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। এই কারণেই তাকে হত্যা করে কলার বাগানে বালুর স্তূপে পুঁতে রাখা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পর তার মোবাইল ফোন ও অটোরিকশাও নিয়ে যাওয়া হয়।

গ্রেফতার ও প্রতিবাদ

রবিবার বিকালে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে নিহতের বাড়ির কাছে এবং থানার সামনে এলাকাবাসী মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এই সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসামিদের গ্রেফতারের আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে পুলিশের তৎপরতায় চারজন আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘অটোচালক সোহাগ হোসেনের হত্যা মামলায় আমরা আরাফাত, নজির, সুজন ও হৃদয়কে গ্রেফতার করেছি। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

নিহতের ভাই রাজিব হোসেন জানান, আসামি আরাফাতসহ অন্যান্য সন্দেহভাজনরা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। পুলিশের তদন্তে এই মামলার গভীরতা ও পলাতকদের শনাক্তকরণে জোর দেওয়া হচ্ছে।