ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটার হামলার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মামলা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতের সিদ্ধান্ত ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
আজ রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিছবাহ উদ্দিন আহমেদ মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে এবং আসামিদের দ্রুত বিচারের পথ সুগম হয়েছে।
বাদী ও মামলার পটভূমি
মামলার বাদী হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুরের বাসিন্দা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য আতিকুর রহমান। তিনি সুলতানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আসামিদের পরিচয়
মামলায় নয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিরা হলেন:
- সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ মহসীন (৫৫ বছর)
- তাঁর ভাই মো. এখলাছ (৪০ বছর)
- ছেলে মো. আকাশ (২৪ বছর)
- মো. সানি (২২ বছর)
- মো. লিটন বাবু (২২ বছর)
- মো. রাকিব (২১ বছর)
- মো. মোজাম্মেল (২৩ বছর)
- মো. রায়হান (২৩ বছর)
- মো. আরমান (২৫ বছর)
তাঁরা সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের হাবলাউচ্চ গ্রামের বাসিন্দা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটির পদে রয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
মামলার আরজি সূত্রে জানা গেছে, আসামিরা নির্বাচন বানচাল করার জন্য বিভিন্ন চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। তাঁরা কয়েক দফা নির্বাচন বন্ধ করার জন্য চেষ্টা চালিয়েছেন। বিশেষ করে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সকালে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেন।
বিষয়টি জানতে পেরে আতিকুর রহমান হাবলাউচ্চ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসামিদের এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলেন। কিন্তু আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বেলা ১১টার দিকে আতিকুরের ওপর হামলা চালান। লোহার রড দিয়ে আতিকুরকে মারধর ও ছুরিকাঘাতে আহত করা হয়। একপর্যায়ে তাঁরা আতিকুরের কাছে থাকা ৫৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান। পরে তিনি আহত অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
বাদীর প্রতিক্রিয়া
আতিকুর রহমান বলেন, 'দ্রুত বিচার আইনে আদালতে এই মামলা করেছি। দোষীদের দ্রুত বিচার আশা করছি।' তাঁর এই বক্তব্য মামলার গুরুত্ব ও জরুরিতা তুলে ধরে।
এই ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সহিংসতা ও ভোটার ভীতি প্রদর্শনের একটি উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় এখন আইনি লড়াই আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় রাজনৈতিক সহিংসতা ও নির্বাচনী অপরাধ নিয়ে এই মামলা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার সৃষ্টি করবে।
