ঈদুল আজহায় ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত কামরা বরাদ্দের নির্দেশ হাইকোর্টের
ঈদুল আজহায় ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত কামরা বরাদ্দের নির্দেশ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনের বিধান অনুযায়ী যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ (সংরক্ষিত) রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদেশের বিবরণ

এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ও ১১৯ ধারা বাস্তবায়নে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ পারভীন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১০ মার্চ হাইকোর্ট রুল দেন।

আবেদনের প্রেক্ষাপট

পাঁচ বছর আগের ওই রিটের ধারাবাহিকতায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য কামরা বরাদ্দ চেয়ে সম্পূরক আবেদনটি করেন রিট আবেদনকারী। আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজমল হোসেন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরে শফিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আইনেই আছে যাত্রীবাহী ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ রাখতে হবে। আবেদনকারীপক্ষ বলেছে, যাত্রীবাহী ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ (সংরক্ষিত) রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু আসন্ন ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে যাত্রীবাহী ট্রেনে এই কামরা বরাদ্দ রাখতে বলা হয়েছে।

আইনের বিধান

রিট আবেদনকারীর আইনজীবীর তথ্যমতে, ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারা অনুসারে প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা থাকার কথা। ৫০ মাইলের বেশি ভ্রমণকারী ট্রেনের ক্ষেত্রে ওই কামরার সঙ্গে একটি শৌচাগার সংযুক্ত থাকবে বলা আছে। সেখানে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে জরিমানা আরোপের কথা উল্লেখ আছে ১১৯ ধারায়। ওই দুই ধারার বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালে ওই রিট করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রুলের বিষয়

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া রুলে আইনের বিধান অনুযায়ী যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ (সংরক্ষিত) রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। নারী যাত্রীদের জন্য ট্রেনে নির্দিষ্ট কামরা সংরক্ষণসংক্রান্ত আইনের ওই দুটি বিধান বাস্তবায়নে নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়। রেলওয়ে সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপকসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়।