প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ নিয়ে বিপাকে বেবিচক
প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ নিয়ে বিপাকে বেবিচক

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ নিয়ে আইনি বাধ্যবাধকতায় বিপাকে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। একদিকে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী এম জাকারিয়া হোসেনের চলতি দায়িত্বের মেয়াদ গত ৭ মাস আগেই পার হয়ে গেছে। অন্যদিকে এই পদে নতুন নিয়োগ দিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এমন অবস্থায় জাকারিয়া ওই পদে থাকবেন কিনা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এমন অবস্থায় বোর্ড সভায় এ বিষয়ে বেবিচকের আইনজীবী প্যানেলর মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বোর্ড সভায় আলোচনা

গত ৬ মে বেবিচকের ৩১৪তম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এ বিষয়ে বোর্ডের সদস্য (প্রশাসন) ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব এস এম লাবলুর রহমান বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। পরবর্তী সময়ে আইনজীবী প্যানেলের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরাও তাতে সায় দেন।

এস এম লাবলুর রহমান নিজেই বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা এখনও বিষয়টি সমাধান করতে পারিনি। তবে আইনজীবীদের মতামত নিয়ে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মেয়াদ শেষের পরও এম জাকারিয়া হোসেন এতদিন দায়িত্বে আছেন, এটি বৈধ নাকি অবৈধ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আদালত যেখানে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, সে কারণে মূলত (নতুন নিয়োগ) হয়নি। তবে আমরা বোর্ড সভায় আলোচনা করেছি, এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত হবে।’

মামলার জটিলতা

সেদিনের বোর্ড সভার কার্যবিবরণীর একটি কপি বাংলা ট্রিবিউনের হাতে এসেছে। কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, সভায় এস এম লাবলুর রহমান জানান, বেবিচকের ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ৩০৩তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নথি উপস্থাপন করে চেয়ারম্যানের অনুমোদন সাপেক্ষে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) মো. জাকারিয়া হোসেনকে প্রধান প্রকৌশলী পদে ৬ মাসের জন্য চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হয়। একই বছরের ৬ অক্টোবর চলতি দায়িত্বের মেয়াদ অতিক্রান্ত হলেও আদালতের মামলা চলমান থাকার কারণে এই বিষয়ে কোনও কার্যক্রম গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি বোর্ড সভায় জানান, প্রধান প্রকৌশলী পদের চলতি দায়িত্ব ও জ্যেষ্ঠতা নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) শুভাশীষ বড়ুয়া হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জানতে চান, বেবিচকের ১৯৮৮ সালের চাকরি প্রবিধানমালার উপ-প্রবিধান ১৪(২) অনুযায়ী কেন তাঁর জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে না। উল্লেখ্য, ওই বিধানটি তাঁর চাকরিতে যোগদানের সময় কার্যকর ছিল, তবে পরে ২০২১ সালের প্রবিধানমালার মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে রিটের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি না দিতে বেবিচক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত।

পরে এই আদেশের বিরুদ্ধে প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. জাকরিয়া হোসেন আপিল করেন, যা পরে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এ মামলায় আপিল বিভাগ গতবছরের ২৯ ডিসেম্বর হাইকোর্টের আদেশের ওপর ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেন। অন্যদিকে বেবিচক কর্তৃপক্ষও পৃথকভাবে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দায়ের করে। পরে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ এ মামলাটিকেও আগের মামলার সঙ্গে একত্র করে স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন। বর্তমানে দুটি মামলাই বিচারাধীন রয়েছে।

আইনজীবীর মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত

বোর্ড সভায় এস এম লাবলুর রহমান ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর থেকে জাকরিয়া হোসেনকে প্রধান প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে বোর্ডের সদয় সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করেন। কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, এ বিষয়ে বোর্ডের সভাপতি ও সদস্যরা বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সার্বিক আলোচনার পর মামলা চলমান থাকায় জাকরিয়া হোসেনকে প্রধান প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়া যাবে- কিনা সে বিষয়ে বেবিচকের প্যানেল আইনজীবীর মতামত নেওয়া যেতে পারে বলে বোর্ডের সদস্য একমত হন।

তবে চলতি দায়িত্বে থাকা বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী জাকারিয়া হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।