মা-মেয়েসহ ৫ জনকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, জানালেন ফরেনসিক চিকিৎসক
মা-মেয়েসহ ৫ জনকে যেভাবে হত্যা, জানালেন ফরেনসিক চিকিৎসক

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্তের পর লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাজহারুল হক। তিনি যুগান্তরকে জানান, ভিসারার জন্য নিহতদের পেটের বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ করে ঢাকা সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট আসার পর নিশ্চিত করা যাবে আদৌ কোনো চেতনানাশক বা অন্য কোনো ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল কিনা। তবে সরাসরি ওপেন করে তারা গন্ধ জাতীয় কিছু পায়নি বলে জানান।

হত্যার ধরন ও ময়নাতদন্তের বিবরণ

ডা. মাজহারুল হক বলেন, পাঁচটি লাশের মধ্যে চারটিকেই ধারাল অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং দুই বছরের শিশু ফারিয়াকে শ্বাসরোধ করে মারা হয়েছে। তিনি আরও জানান, রসুল মোল্লাকে চেতনানাশক বা অন্য কোনো ওষুধ খাইয়ে অথবা গভীর ঘুমে থাকাবস্থায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে একটানে শেষ করে ফেলা হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে সে কোনো প্রতিরোধ করতে পারেনি। তার গলার সামনে উপরে নিচে বড় দুটি কাটা রয়েছে।

সোমবার রাতে ফরেনসিক বিভাগের ওই চিকিৎসক কাপাসিয়ার ফাইভ মার্ডারের (স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালক) ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ভিসারার আলামত সংগ্রহের পর হত্যার এ লোমহর্ষক তথ্যের বর্ণনা দেন। বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, নিহত শারমিন খানম, তার ভাই রসুল মোল্লা, দুই মেয়ে মীম ও হাবিবাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। রসুলের গলায়, স্ত্রী ও দুই মেয়ের শরীরের বিভিন্ন অংশে নির্মমভাবে ধারাল অস্ত্র চালানো হয়েছে। আর ছোট মেয়ে ফারিয়াকে নাক মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্ত্রী শারমিনের ওপর নির্মম নির্যাতন

চিকিৎসক বলেন, স্ত্রী শারমিন খানমকে দুই হাত ও মুখ বেঁধে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার আগে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কিনা সেটা পরীক্ষার জন্য নিহতদের পেটের ভেতরের বিভিন্ন অংশ, খাবার ও অন্যান্য দ্রব্য সংগ্রহ করে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ওই ল্যাবের প্রতিবেদন পেলে আরও বিস্তারিত বিষয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঘটনার বিবরণ ও মামলা

শুক্রবার দিবাগত রাতে গোপালগঞ্জ জেলার পাইককান্দি গ্রামের বাসিন্দা শাহাদত মোল্লার কন্যা শারমিন খানম (৩৫) এবং তার ছোট ভাইসহ একই পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে মোবাইল ফোনে স্বীকারোক্তি দিয়ে পালিয়ে যায় পাষণ্ড পিতা ঘাতক স্বামী ফোরকান মিয়া। পরে কাপাসিয়া থানা পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

নিহতরা হলেন- শারমিন খানম (৩৫), তার ভাই রসুল (২২), ফোরকান-শারমিন দম্পতির তিন কন্যা মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২)। এ ঘটনায় শনিবার রাতে নিহত শারমিনের বাবা মো. সাহাদৎ মোল্লা বাদী হয়ে পলাতক ফোরকানসহ ৩-৪ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে এবং ঘাতককে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে; কিন্তু এমন একটি লোমহর্ষক ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও ঘাতককে গ্রেফতার করতে পারেনি।