চাঁদপুরের কচুয়ায় চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে কচুয়া থানা পুলিশ। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ থাকা রাগদৈল আইএম দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র শাকিব হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজের প্রায় দুই মাস পর ভিকটিমের মাথার খুলি ও শরীরের হাড় উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
কচুয়া থানার ওসি আজিজুল ইসলাম প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, নিহত শাকিব হাসান উপজেলার ১ নং সাচার ইউনিয়নের জয়নগর (গাজী বাড়ী) এলাকার সৌদি প্রবাসী আব্দুল কাদেরের ছেলে। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে বাইরে থেকে কেউ নাম ধরে ডাক দিলে শাকিব ঘর থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে শাকিবের দাদা মোন্তাজ উদ্দিন কচুয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। খবর পেয়ে ভিকটিমের বাবা সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে ছেলেকে খুঁজতে থাকেন।
মাথার খুলি ও হাড় উদ্ধার
পরবর্তীতে ২৪ নভেম্বর স্থানীয় মোস্তফা নামের এক ব্যক্তি তার কৃষি জমির পাশে ডোবা পরিষ্কার করার সময় মানুষের মাথার খুলি ও হাড়ের অংশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাথার খুলি ও হাড়ের সাতটি অংশ উদ্ধার করে অপমৃত্যু মামলা রুজু করে। পরে উদ্ধারকৃত আলামত সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে পরীক্ষায় সেগুলো শাকিব হাসানের বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
হত্যা মামলা ও গ্রেফতার
ডিএনএ রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিহতের বাবা আব্দুল কাদের বাদি হয়ে গত ৭ মে কচুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই ফ.ম শাহজাহান। কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম তদন্ত শুরু করে। সোর্স সহায়তায় পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরে গত ৮ মে সন্ধ্যা থেকে ৯ মে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টার অভিযানে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন কিশোর আরমান গাজী (১৭) এবং মেহেদী হাসান গাজী (১৭)। তাদের উভয়ের বাড়ি কচুয়া উপজেলার সাচার ইউনিয়নের জয়নগর (গাজী বাড়ী) এলাকায়।
হত্যার স্বীকারোক্তি
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যার দায় স্বীকার করে জানায়, তারা শাকিবকে পুকুরে গোসল করার সময় পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে। পরে মরদেহ পানির নিচে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। রাতে মরদেহ তুলে হাত-পা কেটে বস্তাবন্দি করে ইট বেঁধে পানির নিচে ফেলে দেয়, যাতে লাশ ভেসে না ওঠে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে শনিবার (১০ মে) আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। বিজ্ঞ আদালত তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।



