সরকারি দলের বন্ধুদের সংবিধান, সাংবিধানিক আইন এবং সংস্কার সম্পর্কে খুব বেশি পড়াশোনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। সংবিধান সংস্কারে গড়িমসি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমার মনে হয় সরকারি দলের বন্ধুদের এগুলো সম্পর্কে খুব বেশি পড়াশোনা নেই। তাদের আরও বেশি লেখাপড়া করা উচিত।
সেমিনারে বক্তব্য
রোববার (১০ মে) বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম নগরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে 'গণভোটের রায় জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ' শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সংস্কারের প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সাধারণ মানুষের বোধগম্য হলেও সরকার তা বুঝতে পারছে না বা এড়িয়ে যাচ্ছে। এত সুন্দর বাংলায় লেখা সংস্কারের প্রস্তাবগুলো যদি কেউ না বোঝে, তবে তাদের ভিন্ন কোনো ভাষার প্রতি আগ্রহ বেশি কি না, তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়।
বিএনপি নেতাদের সমালোচনা
শিশির মনির বলেন, বিএনপি নেতাদের সংবিধান নিয়ে প্রশ্ন করলে বা ৫ আগস্ট থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঘটে যাওয়া পরিস্থিতির সমাধান চাইলে তারা বলেন, সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের আলোকে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের আমলে যা করেছিলাম, এখনো তেমনটাই করব। কিন্তু জিয়াউর রহমানের সময়ের সেই পঞ্চম সংশোধনী ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্ট অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল। আপনাদের সেই আইন কি টিকেছে? আপনাদের সামর্থ্য বা বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায় যে আপনারা এই বিষয়টি বুঝতে পারছেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়ে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে কোনো গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বানানোর নজির নেই। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার চেয়ে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি হিসেবে সম্মানীয় ও ডক্টরেট ডিগ্রিধারী যোগ্য প্রফেসর থাকার পরও দলীয় তল্পিবাহক লোকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
বিচারক নিয়োগ আইন ও অন্যান্য সমালোচনা
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিচারক নিয়োগের জন্য একটি আইন করা হয়েছিল, যা বর্তমানে কার্যকর করা হচ্ছে না। গুম বিরোধী আইন এবং তথ্য অধিকার আইনের সংশোধনী বাতিল করার বিষয়েও তিনি সরকারের সমালোচনা করেন। শিশির মনির বলেন, তারা নিজেরা গুমের শিকার হয়েছেন, অথচ গুম বিরোধী আইন বাদ দিয়েছেন। তথ্য অধিকার আইনের সংশোধনীতে সকল সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অডিট রিপোর্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা ছিল, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারত। কিন্তু সেই পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে লাভ কার?
গণভোটের গুরুত্ব
অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, গণভোট জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থান নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে সাংবিধানিক, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংকট তৈরি হয়।



