বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যু: জামিন চাইতে এসে কারাগারে স্বামী
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যু: জামিন চাইতে এসে কারাগারে স্বামী

কুমিল্লার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাতুন নাঈম ফারিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয়কে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার (১০ মে) ফারিয়ার স্বামী হৃদয়, তার বাবা ও মাসহ অভিযুক্ত পাঁচ জন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন।

আদালতের রায়

এ সময় ১নং আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল মমিন চার জনের জামিন মঞ্জুর করেন। আর ফারিয়ার স্বামী হৃদয়কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী তাফসিরুল আলম।

তিনি বলেন, গত বুধবার (৬ মে) রাতে ফারিয়ার স্কুলশিক্ষক বাবা মো. হানিফ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ফারিয়ার স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয়, তার বাবা আবদুর রহিম, মা আফরোজা বেগম, ননদ রীমা আক্তার ও তার স্বামী জাকারিয়াসহ পাঁচ জনকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ

এর আগে মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালীপট্টি এলাকার 'কাশেম গার্ডেন' নামের একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ ফারিয়ার লাশ উদ্ধার করে। ফারিয়া (২৩) কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি জেলার নাঙ্গলকোটের দৌলখাড় ইউনিয়নের কান্দাল গ্রামে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার অভিযোগ

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ফারিয়া ও হৃদয় কুমিল্লার সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার আবদুর রহিমের ছেলে মেহেদী হাসান হৃদয়ের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার দেনমোহরে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিবাহের পর থেকে তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। এতে ফারিয়া তার স্কুলশিক্ষক বাবার কাছ থেকে টাকা এনে দিতে না পারায় পরিবারে কলহ দেখা দেয়। এ নিয়ে একাধিকবার তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

ফারিয়ার বাবার বক্তব্য

ফারিয়ার বাবা মো. হানিফ বলেন, 'আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে আসামিরা হত্যার পর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে ৯৯৯-এ কল করে পুলিশ ডেকে আনে। আজ প্রধান আসামি হৃদয়কে কারাগারে পাঠানোর খবর জেনেছি। তাকে রিমান্ডে নিলে সব রহস্য বের হবে।'

পুলিশের বক্তব্য

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, 'ফারিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান আসামি হৃদয় জামিন চাইতে আদালতে হাজির হলে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদালতে আবেদন জানানো হবে।'