গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পাঁচ হত্যাকাণ্ড: জেলা প্রশাসকের মানবিক দৃষ্টান্ত
গাজীপুরে পাঁচ হত্যা: জেলা প্রশাসকের মানবিকতা

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর শোকাতুর পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। গভীর রাতে বিশেষ তদারকির মাধ্যমে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহগুলো তাদের নিজ জেলা গোপালগঞ্জে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

শনিবার (৯ মে) সকালে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোন গ্রামের একটি আবাসিক কলোনি থেকে রক্তমাখা অবস্থায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, শ্যালক রসুলকে ফোন করে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ডেকে আনে ফোরকান। এরপর স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে খুন করে সে। নিহতরা হলেন—গোপালগঞ্জ জেলার পাইককান্দি গ্রামের বাসিন্দা শারমিন খানম (৩৫), তার ভাই রসুল (২২), শারমিনের তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২)। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শারমিনের স্বামী ফোরকান এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আত্মগোপন করেছেন।

প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ

হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরই জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ঘটনাস্থলে ছুটে যান প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন, কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না তাসনীম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাহিদুল হকসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জেলা প্রশাসকের মানবিক উদ্যোগ

সাধারণত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুপুর ২টার পর ময়নাতদন্ত বন্ধ থাকলেও ঘটনার গুরুত্ব ও লাশের মর্যাদার কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগী হন। তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিশেষ ব্যবস্থায় গত রাতেই পাঁচটি মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করেন। একই সঙ্গে বৈরী আবহাওয়া ও দীর্ঘ পথের কথা চিন্তা করে সাধারণ পিক-আপ ভ্যানের পরিবর্তে দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (ফ্রিজিং) ভ্যানের ব্যবস্থা করেন জেলা প্রশাসক।

‘মানুষ চলে গেলেও তার মরদেহের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব’- এমন মানবিক বোধ থেকে তিনি দাফন ও পরিবহন সংক্রান্ত যাবতীয় আর্থিক সহায়তার দায়ভারও গ্রহণ করেন। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং হত্যাকারী ফোরকানের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।