নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন ও গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনা জটিল আকার ধারণ করেছে। প্রথমে পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তারের পর জামিন পেলেও তা স্থগিত হয়। এরপর আরও পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়, সেখানেও জামিন মেলে। কিন্তু হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আবার স্থগিত হয়েছে। সর্বশেষ দুই মামলায় জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। মোট ১২টি মামলার মধ্যে ৭টির এজাহারে আইভীর নাম নেই।
প্রথম দফার পাঁচ মামলা
গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রথমে তিনটি হত্যা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অধস্তন আদালতে জামিন না পেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। ৯ নভেম্বর হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে ১২ নভেম্বর চেম্বার আদালত জামিন স্থগিত করে। আবেদনগুলো এখনো আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায়।
দ্বিতীয় দফার পাঁচ মামলা
প্রথম পাঁচ মামলায় জামিনের দিনই আরও পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। ১৮ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তা মঞ্জুর করেন। নতুন পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা এবং একটি হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলা। এসব মামলার এজাহারে আইভীর নাম নেই। অধস্তন আদালতে জামিন না পেয়ে হাইকোর্টে যান। ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে ৫ মার্চ চেম্বার আদালত জামিন স্থগিত করেন।
সর্বশেষ দুই মামলা
এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুটি হত্যা মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখাতে আবেদন করে পুলিশ। ২ মার্চ একটি এবং ১২ এপ্রিল অপর মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। এই দুই মামলায়ও অধস্তন আদালতে জামিন না পেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে, যা শুনানির অপেক্ষায়।
হাইকোর্টের নির্দেশ
সর্বশেষ দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে আইভী রিট করেন। ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট রুলসহ আদেশে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া তাঁকে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন। রুলে বারবার মিথ্যা মামলায় জড়ানোর কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
বাদীদের বক্তব্য
আইভীর বিরুদ্ধে এজাহারনামীয় প্রথম পাঁচ মামলার তিন বাদীর সঙ্গে কথা বলেছেন প্রথম আলোর সাংবাদিক। তাঁরা দাবি করেন, এজাহারে কারও নাম দেননি। থানায় বিএনপির নেতা-কর্মী ও পুলিশ নাম দিয়েছে। নিহত মিনারুলের ভাই নাজমুল হক বলেন, 'আমি কাউকে চিনি না। থানায় বিএনপির লোকজন ছিল, তারাই আসামির নাম দিয়েছে।' হত্যাচেষ্টা মামলার বাদী চাঁদ মিয়া বলেন, তাঁকে ভাতার কার্ড ও টাকার আশ্বাসে মামলা করানো হয়েছে। আইভীসহ আসামিদের তিনি চেনেন না।
পুলিশের বক্তব্য
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, কেউ আবেদন করলে নতুন আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া হবে। তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলেও বাদ দেওয়া হবে। তদন্ত এখনো চলমান।
আইভীর পরিবারের বক্তব্য
আইভীর ছোট বোন মিনু আহমেদ বলেন, 'আইভী আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও গডফাদার শামীম ওসমানের সঙ্গে লড়াই করে জিতেছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত তাঁকে একের পর এক মামলায় জড়ানো হয়েছে, অথচ কোনো ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই।' আইভী ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন। পরে সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে জয়ী হন।



