রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে হামলা, ভিসির পদত্যাগের দাবি পণ্ড
রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে হামলা

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর পদত্যাগের দাবিতে ডাকা শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলনে প্রক্টরের উপস্থিতিতে ‘মব করে হামলার’ অভিযোগ উঠেছে। ফলে পূর্ব নির্ধারিত এই সংবাদ সম্মেলন পণ্ড হয়ে যায়। শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

পাল্টা সংবাদ সম্মেলন ও প্রক্টরের উপস্থিতি

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে একই স্থানে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করতে চাওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে সংবাদ সম্মেলন শুরুর কিছু আগে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান উপস্থিত হয়ে আয়োজক শিক্ষার্থীদের কাছে সংবাদ সম্মেলনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চান। এ সময় অনুমতি ছাড়া সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়ামকে উদ্দেশ্য করে প্রক্টর ফেরদৌস রহমান বলেন, উপাচার্য কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি নিজের পদ ও একই সঙ্গে শিক্ষকতাও ছেড়ে দেবেন। শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়াম উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় তিনি জাল সনদে চাকরির অভিযোগ ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে প্রক্টরের কাছে তা জানতে চান। জবাবে প্রক্টর ফেরদৌস রহমান বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সনদ যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে এবং যাচাই শেষে প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ

একপর্যায়ে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের কর্মী আখ্যা দেন এবং তিনি ছাত্রলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্ক শুরু হলে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে পৌঁছায়। অভিযোগকারী শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়াম জানান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পূর্ব ঘোষিত সময়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী উপাচার্যের সকল অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করতে আসলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেয়। এক পর্যায়ে ছাত্রদল সম্মেলনের টেবিল খুলে ফেলাসহ কলার ধরে হেনস্তা করে।

উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি সংবাদ সম্মেলন করছিলেন। প্রক্টরের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা চালিয়ে সংবাদ সম্মেলন পণ্ড করে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত রাফির বিরুদ্ধে গায়ে হাত তোলার অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচন নিয়ে ধারাবাহিক টালবাহানা ও ব্যর্থতায় শিক্ষার্থীরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ। যৌন নিপীড়নের অভিযোগ থাকা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের রক্ষার প্রবণতা দেখা গেছে বলেও দাবি করেন।

অভিযোগকারীর বক্তব্য

হামলার শিকার ও অভিযোগকারী শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়াম অভিযোগ করে বলেন, কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে একটি সংবাদ সম্মেলনের ডাকা হয়। যা কোনো মনগড়া অভিযোগ নয়। এক পর্যায়ে রেজিস্ট্রার আসেন এবং তিনি মিডিয়ার সামনে জানান, তিনি অভিযোগগুলো শুনবেন। অভিযোগ শোনার একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমাকে ট্যাগিং করে। ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত রাফি; যে আগে ছাত্রলীগের লিফলেট বিতরণ করতো সে আমাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে গলার কলার ধরে মারতে আসে।

ছাত্রদলের অস্বীকৃতি

অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত রাফি বলেন, হাফিজুর রহমান সিয়াম ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন এবং বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে ছাত্রলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

প্রক্টরের বক্তব্য

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান বলেন, যে শিক্ষার্থী সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল, আমি সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলছিলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী সেখানে আসায় ঝামেলার সৃষ্টি হয়।