সংসদ সদস্য হওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেন অনেকে। এই তালিকায় থাকে ঋণখেলাপিও। তবে, ঋণখেলাপি এমপি প্রার্থী কীভাবে খুঁজে পাওয়া যাবে না তা জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
চিকিৎসা বাধ্যতামূলক হলে ঋণখেলাপিরা সরে আসবেন
তিনি বলেছেন, “জেলার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য করা হলে এমপি হওয়ার দৌড়ে যেসব ঋণখেলাপি দৌড়াচ্ছে তাদের কাউকে আপনি খুঁজে পাবেন না।” বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে রাজধানীতে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষাখাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
এমপি হতে কোটিপতি ঋণখেলাপিরা এগিয়ে
রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে একটা বিষয় উপলব্ধি করেছি। আমরা সাধারণত এমপি হিসেবে তাদের দেখি যাদের কয়েকশ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে। একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী যিনি কখনও রাজনীতি করেন নাই তিনিও যেমন এমপির দৌড়ে অনেক এগিয়ে থাকেন, তেমনি আবার যার কোনও সোর্স অফ ইনকাম নাই, পেশা নাই তিনিও কিন্তু এমপি হওয়ার জন্য শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে দু’বার চিন্তা করেন না।”
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে আপস নয়
তিনি বলেন, “আমার কাছে মনে হয় শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের ব্যাপারে নো কম্প্রোমাইজে যাওয়ার সময় এসেছে। আপনি যদি এমপি হন বা হতে চান আপনার সন্তানকে এলাকার স্কুলে পড়াতে হবে। যদি এটাকে কিছুটা শিথিলও করি তাহলে জেলা স্কুলে অন্তত পড়াতে হবে। আমি সরাইলের এমপি, আমার সন্তানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্কুলে পড়তে হবে।”
এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বলেন, “আমি কিন্তু ওয়াদা করেছি, আমার এলাকায় চিকিৎসা নেব এবং আমি কিন্তু সেটা নিচ্ছি।”
শিক্ষকদের বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি
শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে তিনি বলেন, “প্রাইমারি লেভেল থেকে শুরু করে সেকেন্ডারি পর্যন্ত শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে আমাদের আবার নতুন করে ভাবতে হবে, যেন সবচেয়ে মেধাবীরা শিক্ষকতাতে যান। শিক্ষকরা কোচিং করেন কেন? হ্যাঁ একটা সময় তো টাকার লোভ তৈরি হয়। তাদের একেবারে ন্যূনতম প্রয়োজন সেটাকে পূরণ করার জন্য তাদের কোচিংয়ে ঢুকতে হয়, না হলে তো তারা সংসারই চালাতে পারবে না।”



