শাপলা চত্বর হত্যাঃ রাজসাক্ষী হতে রাজি সাবেক ডিআইজি জলিল
শাপলা চত্বর হত্যাঃ রাজসাক্ষী হতে রাজি সাবেক ডিআইজি জলিল

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হতে রাজি আছেন পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিল মণ্ডল। বুধবার ট্রাইব্যুনালে তাঁর জামিন শুনানির সময় তাঁর আইনজীবী মো. আলী হায়দার এই তথ্য জানান।

জামিন শুনানিতে কী হলো

শুনানিতে আইনজীবী আলী হায়দার বলেন, জলিল মণ্ডল হৃদরোগে আক্রান্ত এবং তাঁর হার্টে সাতটি ব্লক রয়েছে। এ অবস্থায় তিনি জামিন চান। তবে ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করে যে, একজন বিচারপতি হার্টে ১৭-১৮টি ব্লক নিয়েও অফিস করেন, তাই জামিনের জন্য এটি যথেষ্ট কারণ নয়। পরে আইনজীবী বলেন, তাঁর মক্কেল পাসপোর্ট জমা দিতে রাজি এবং অ্যাপ্রুভার হতে চান। তিনি বিচারকাজে সহযোগিতা করতে চান। ২০২৪ সালে এই মামলা হয়েছে, তিনি পালিয়ে যাননি, বরং নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল অ্যাপ্রুভার বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।

মামলার বিবরণ

শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আইনজীবী আলী হায়দার সাংবাদিকদের বলেন, যদি ট্রাইব্যুনাল অনুমতি দেয়, তাহলে তাঁর মক্কেল অ্যাপ্রুভার হতে চান। অন্যদিকে, চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালের মে মাসে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে এখন পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে ৫৮ জনের হত্যাকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাঁরা সবাইকে শনাক্ত করতে পেরেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার আসামিরা

এই মামলায় জলিল মণ্ডলসহ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক (টুকু), মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার প্রমুখ আসামি রয়েছেন।

গ্রেপ্তারের ঘটনা

গত ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে আবদুল জলিল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবি সূত্র জানায়, তাঁর বাড়ি পাবনায়। তিনি পুলিশ বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন, একসময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার ছিলেন। শাপলা চত্বরে হেফাজতের আন্দোলনের সময় তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।