দেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উঠে আসা তরুণ নেতৃত্ব পরবর্তী সময়ে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এসবের পেছনে তথাকথিত বুদ্ধিজীবী মহলের দায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে এ কথা বলেন তাঁরা।
সেমিনারের মূল আলোচনা
দুপুর ১২টায় বিভাগের ইলেকশন ল্যাবের উদ্যোগে সম্মেলনকক্ষে 'দক্ষিণ এশিয়ায় জেন-জির নির্বাচনী রাজনীতি: নেপাল ও বাংলাদেশে তরুণদের ভিন্নধর্মী ফলাফল' শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এস এম আলী রেজা বলেন, নেপালে জেন-জিদের লক্ষ্য ছিল স্থির, যার ঘাটতি বাংলাদেশে পরিলক্ষিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর ছাত্রনেতাদের ভূমিকা নানাবিধ বিতর্কের জন্ম দেয়, যা জাতিকে আশাহত করে। এর প্রভাব পড়ে ত্রয়োদশ নির্বাচনের ওপর। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশের জনগণকে 'দ্বিধাগ্রস্ত গণতন্ত্রী' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এসব মনস্তাত্ত্বিক, কাঠামোগতসহ আরও নানা কারণে বাংলাদেশে নেপালের মতো ফলাফল আসেনি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা
পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, 'অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তৎকালীন প্রেক্ষাপটে অগ্রাধিকার ঠিক করতে পারেনি।' উপদেষ্টাদের অনেকের মধ্যেই রাজনৈতিক অভিপ্রায় দেখা দিয়েছিল, যা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চিন্তার উদ্রেক করে। এ ছাড়া তিনি জেন-জি আন্দোলন থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক দল এনসিপির রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা
ইলেকশন ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক মো. সাহাবুল হক বলেন, 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের খপ্পরে পড়ে পথভ্রষ্ট হয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগ দিয়েছেন। কেউ কেউ রাষ্ট্রের বড় বড় লোভনীয় পদ বাগিয়ে নিয়েছেন, যা গণ-অভ্যুত্থানের মোটিভ বদলে দিয়েছে। কিন্তু নেপালে, জেন-জিদের লক্ষ্য ছিল স্থির, ফলে তারা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় বসেছে।'
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সৈয়দ আশরাফুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন ইলেকশন ল্যাবের উপপরিচালক অধ্যাপক জায়েদা শারমিন। বক্তব্য দেন পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. এমদাদুল হক। অনুষ্ঠানে পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।



