রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা বিপ্লব শেখ (১৯) হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
আদালতের আদেশ
সোমবার (৪ মে) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। মিরপুর মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হাবিব উল্ল্যাহ ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শুনানি
এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। তিনি বলেন, ওনি একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ। ওনি ১৪ দিন রিমান্ডের পর অসুস্থ হয়ে যান। ১৫ দিন মেডিক্যালে ছিলেন। হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। সার্বিক বিবেচনায় তার রিমান্ড বাতিল করা হোক।
মামলার বিবরণ
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর আজমল হাসপাতালের সামনে ছাত্র-জনতার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে মিছিলে অংশ নেন ভুক্তভোগী বিপ্লব শেখ। এজাহারনামীয় ১ নং আসামিসহ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পরোক্ষ নির্দেশে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে মিছিলে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে। এতে বিপ্লব শেখের গলায় ও কোমরে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ওই দিন রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মামলা দায়ের
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই নিহতের বাবা পারভেজ শেখ বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে বলেন, মামলার প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনার সময় জড়িত অন্যান্য আসামিদের ভূমিকা যাচাই এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত করার জন্য তাকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
গ্রেপ্তার ও পূর্ববর্তী রিমান্ড
উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ মাসুদ উদ্দিনকে বারিধারা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে একাধিক মামলায় কয়েক দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।



