যুক্তরাজ্যের মিশেল ও লাভিনিয়া ওসবোর্ন নামের দুই যমজ বোন দীর্ঘদিন ধরে মনে করতেন, তারা একই মা-বাবার সন্তান। একই পরিবার, একই পরিচয়—সবকিছু একই রকম ছিল। কিন্তু পরে জানা যায়, তাদের জৈবিক বাবা আলাদা। ১৯৭৬ সালে জন্ম নেওয়া এই দুই বোন ছোটবেলা থেকেই নিজেদের পূর্ণ যমজ বলে জানতেন। তবে ২০২২ সালে করা একটি ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায়, তারা একই মায়ের সন্তান হলেও বাবার ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে।
বিরল চিকিৎসা ঘটনা
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল ঘটনাকে বলা হয় হেটারোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন। বিশেষজ্ঞদের মতে, একই ঋতুচক্রে একাধিক ডিম্বাণু থাকলে এবং অল্প সময়ের ব্যবধানে ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক হলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত এমন ঘটনার সংখ্যা হাতে গোনা—প্রায় ২০টির মতো। যুক্তরাজ্যে নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর মধ্যে মিশেল ও লাভিনিয়ার ঘটনাই প্রথম।
শৈশব ও পরিবার
জানা যায়, ছোটবেলায় মায়ের সান্নিধ্য কম পেয়েছেন তারা। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তাদের মা লন্ডনে চলে যান। পরে অন্য একজন নারীর তত্ত্বাবধানে তারা বড় হন। কৈশোরে জেমস নামের এক ব্যক্তিকে তারা বাবা হিসেবে চিনে আসছিলেন। তবে মিশেলের মনে সন্দেহ ছিল।
সত্য উদঘাটন
২০২১ সালে মায়ের ডিমেনশিয়া ধরা পড়ার পর অতীত সম্পর্কে জানতে গিয়ে মিশেল ডিএনএ পরীক্ষা করান। তার মৃত্যুর দিনই পরীক্ষার ফল আসে, সেখানে জানা যায় জেমস মিশেলের জৈবিক বাবা নন। পরে তিনি জানতে পারেন, তার প্রকৃত বাবা অ্যালেক্স নামের একজন ব্যক্তি। এরপর লাভিনিয়াও ডিএনএ পরীক্ষা করেন। ফলাফলে দেখা যায়, জেমস তারও বাবা নন। তার জৈবিক বাবা আর্থার নামের অন্য একজন।
বর্তমান সম্পর্ক
বর্তমানে লাভিনিয়া তার জৈবিক বাবা আর্থারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। আর্থার দুই বোনকেই গ্রহণ করেছেন। জানা গেছে, এক কঠিন সময়ে তাদের মা আর্থারের সাহায্য চাইতে গিয়ে গর্ভবতী হয়েছিলেন। অন্যদিকে মিশেল তার প্রকৃত বাবা অ্যালেক্সের সঙ্গে দেখা করলেও সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী নন। দুই বোনই জানিয়েছেন, এই চমকপ্রদ সত্য তাদের পরিচয় বদলে দিলেও পারস্পরিক সম্পর্ক ও বন্ধন আগের মতোই অটুট থাকবে।



