ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকায় মর্তুজা আলী নামে এক ব্যক্তি হত্যার মামলায় দুই জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আবদুল মান্নান ও চান মিয়া মারুফ।
রায়ের বিবরণ
রবিবার (৩ মে) ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এ রায় দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জিয়াউল হক জিয়া জানান, দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় মান্নান আদালতে উপস্থিত ছিল। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মারুফ পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির কথা জানিয়েছেন প্রসিকিউটর জিয়াউল হক জিয়া।
ঘটনার বিবরণ
২০০৫ সালের ২৬ জুলাই বিকাল ৪টার দিকে মর্তুজা ট্রায়ালে করে সাভারের আমিন বাজার ডিজেল আনতে গিয়ে আর ফেরেন না। খোঁজাখুঁজির পরও না পেয়ে ২৮ জুলাই সাভার থানায় সাধারণ ডায়েরি করে পরিবার। পরে তার পরিবার পাম্পে গিয়ে খবর নেয়। সেখানকার কয়েকজন জানান, ওইদিন সাড়ে ৫টার দিকে মর্তুজা ঘাটে আসেন। গেদু মিয়ার চায়ের দোকানে ডিজেল কেনার ১ হাজার টাকা ও কন্টেইনার রেখে দুই জন অজ্ঞাত লোক তাকে নিয়ে দক্ষিণের দিকে যায়। তারা মর্তুজার ট্রলার ভাড়া করে। ওই দুই জন সালিশপুর গ্রামের বাড়িতে ভাড়া থাকতো।
পরে মর্তুজার পরিবার খবর নিতে তাদের ভাড়া বাড়িতে যায়। গিয়ে জানতে পারেন, মান্নান ২৬ জুলাই বাসা ছেড়ে চলে গেছে। মান্নানের সঙ্গে তার মাও থাকতো। ২৯ জুলাই মান্নানের মা ভাড়া বাসায় ফিরে আসেন বলে জানতে পারেন। তখন মর্তুজার চাচা মো. ইব্রাহিম মান্নানের মায়ের কাছ থেকে জানতে পারেন, ট্রলারটি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান এলাকায় পুলিশের কাছে ধরা পড়েছে। সেখানে গিয়ে মর্তুজার পরিবার জানতে পারে, মান্নান ও মারুফকেও আটক করেছে পুলিশ। পরে তারা খবর পান, ৩০ জুলাই সকাল ১০টার দিকে শ্যমালাসি এলাকায় এক জনের পচন ধরা মরদেহ পাওয়া গেছে। সেটি শনাক্ত করে মর্তুজার পরিবার।
মামলার প্রক্রিয়া
এ ঘটনায় মর্তুজার চাচা ইব্রাহিম সাভার থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২৬ জুলাই বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে মান্নান ও মারুফ গুলি করে অথবা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মর্তুজাকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রাখে।
মামলাটি তদন্ত করে সাভার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সাত্তার ২০০৬ সালের ২৮ মে দুই জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০০৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত সাত জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আত্মপক্ষ শুনানিতে মান্নান নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচার চান। তবে মারুফ পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ শুনানি করতে পারেননি। মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত থেকে আজ আসামিদের সাজার রায় এলো।



