ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে গত দুই দিনে তালিকাভুক্তসহ ৯৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো তদবিরে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না; বরং তদবিরকারীকেও চক্রের সদস্য হিসেবে গণ্য করা হবে। রোববার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
অভিযানের অগ্রগতি
ডিএমপি কমিশনার জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় ৫৮ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজসহ মোট ৯৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজ যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তদবিরের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
মো. সরওয়ার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'চাঁদাবাজসহ অপরাধীদের ছাড়াতে কেউ তদবির করলে ধরে নেওয়া হবে সেও চক্রের সঙ্গে জড়িত। তদবিরে কাউকে ছাড়া হবে না।' তিনি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের ইঙ্গিত দেন।
সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে অভিযান
অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধেও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ছিনতাইকারীদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রতিটি ছিনতাইয়ের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কেউ নেই; তবে মিডিয়াম লেভেলের এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে কিছু ব্যক্তি সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে জনসাধারণ খুব একটা আক্রমণের শিকার হচ্ছে না।
সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল
সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে সমন্বিত বাহিনী কাজ করছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, অভিযানে সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল নেওয়া হয়েছে। চিহ্নিত এলাকাগুলোতে ব্লক রেইড অভিযানের মাধ্যমে অপরাধীদের পালানোর পথ বন্ধ করা হচ্ছে। আটটি বিভাগের ম্যাজিস্ট্রেটরাও মাঠে রয়েছেন এবং মোবাইল কোর্ট চলমান আছে। অনলাইনে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
হটস্পট ভিত্তিক অভিযান ও নতুন উদ্যোগ
হটস্পট ভিত্তিতে অভিযান চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, অনলাইন প্রতারণায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বাজার ও জনবহুল স্থানে পুলিশিং কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে আরও কিছু নতুন পুলিশ ক্যাম্প বসানো হবে এবং বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার থানা গঠনের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তথ্য ফাঁসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
পুলিশের অভিযানের তথ্য ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান মো. সরওয়ার। তিনি উল্লেখ করেন, সিটি করপোরেশন ফুটপাতে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়ায় চাঁদাবাজির সুযোগ অনেক কমে গেছে।



