রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে এক হজযাত্রীর ২২ হাজার সৌদি রিয়াল চুরির ঘটনায় জড়িত দুই চোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া রিয়ালের একটি বড় অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) বিকেলে হজক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ।
গ্রেপ্তার ও উদ্ধার
গ্রেপ্তাররা হলেন—মো. হাবিবুর রহমান (৫৮) ও মো. নাদিম সরকার (৫৩)। তবে এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও চুরির মূল হোতা আব্দুল মান্নান এখনো পলাতক রয়েছে। গত ২২ এপ্রিল হজক্যাম্পে এক হজযাত্রীর ২২ হাজার সৌদি রিয়াল চুরি হয়। বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ডিএমপির বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়। সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ (সিটি এসবি) ছায়া তদন্ত শুরু করে।
তদন্ত ও অভিযান
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, প্রধান সন্দেহভাজন হাবিবুর রহমান চাঁদপুরের মতলব থেকে কুমিল্লার দিকে পালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ তাকে অনুসরণ করে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া, ডেমরা ও ৩০০ ফিট হয়ে খিলক্ষেত এলাকায় পৌঁছালে একটি যৌথ অভিযানের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে হাবিবুরের দেওয়া তথ্যে টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকা থেকে নাদিমকে আটক করা হয়।
উদ্ধার অর্থ
অভিযানকালে পুলিশ আব্দুল মান্নানের মেয়ের জামাইয়ের বাসা থেকে ৫০০ রিয়ালের ৩৫টি নোটসহ মোট ১৭ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল উদ্ধার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানায় ৩ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ভাঙিয়ে তারা ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছিল। এই টাকার মধ্যে ৯০ হাজার টাকা আব্দুল মান্নানের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
ডিসি মির্জা তারেক আহমেদ বেগ জানান, মূলহোতা আব্দুল মান্নানের অবস্থান শনাক্তে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে হজক্যাম্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।



