হত্যার পর লাশ গুম: ছেলের যাবজ্জীবন, মায়ের ৭ বছর কারাদণ্ড
হত্যার পর লাশ গুম: ছেলের যাবজ্জীবন, মায়ের ৭ বছর কারাদণ্ড

পিরোজপুরে আট বছর আগে মিলন বাহাদুর নামে এক মোটরসাইকেল চালককে হত্যার পর তার মৃতদেহ গুম করার ঘটনায় ছেলেকে যাবজ্জীবন ও তার মায়ের সাত বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন পিরোজপুরের একটি আদালত।

রায়ের বিবরণ

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ আদেশ দেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গ্রামের মো. সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো. তাজিম (২৮) এবং তার স্ত্রী রেহানা বেগম (৫০)।

পাবলিক প্রসিকিউটরের বক্তব্য

পিরোজপুর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আকন জানান, জেলার নেছারাবাদ উপজেলার বয়ারহুলা নামক স্থানে মোটরসাইকেল চালককে হত্যার দায়ে আদালত তাজিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, মৃতদেহ গুমের দায়ে তাজিমের মা রেহানা বেগমকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। রায় ঘোষণার সময় রেহানা বেগম আদালতে উপস্থিত থাকলেও তার ছেলে পলাতক ছিল বলে জানান পিপি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার পটভূমি

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেল কেনাবেচার লেনদেন নিয়ে তাজিম ও মিলনের মধ্যে বিরোধ ছিল। এর জের ধরে ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকালে উপজেলার বয়ারহুলা মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড থেকে মিলন ও তার মোটরসাইকেল ভাড়া নেয় তাজিম ও আরেক যুবক। এরপর রাতেও বাড়ি না ফেরায় মিলনকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকেন তার পরিবার। এ সময় তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ ছিল।

মামলা ও তদন্ত

১২ ফেব্রুয়ারি নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন নিহত মিলনের বাবা শাহাদত বাহাদুর। ১৪ ফেব্রুয়ারি তাজিমের বাড়ির ল্যাট্রিনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে মিলনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মিলনকে হত্যার পর তাজিম তার মায়ের সহযোগিতায় মৃতদেহটি গুম করেছিল বলে জানান আইনজীবী।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে নিহত মিলনের বাবা শাহাদাত বাহাদুর ওই দিনই নেছারাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। রায় ঘোষণার সময় বিচারক অন্য দুই অভিযুক্তকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

আইনজীবীদের ভূমিকা

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আকন ও আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল কবির বাদল।