ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুয়া জন্ম-মৃত্যু সনদ: চার ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত
ভুয়া জন্ম-মৃত্যু সনদ: চার ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য জালিয়াতি করে ভুয়া সনদ তৈরির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় চারটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে কেন তাদের চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই চার ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের বিবরণ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখার উপসচিব হেলেনা পারভীন স্বাক্ষরিত ৯টি পৃথক প্রজ্ঞাপনে ২১ এপ্রিল এ আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনটি গতকাল বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের কাছে এসে পৌঁছায় এবং আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হয়।

জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ আজ দুপুরে বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে চার ইউপির চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনটি গতকাল তারা পেয়েছেন। অন্যদিকে ওই চার ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শোকজের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রথম আলোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জালিয়াতি করে ভুয়া জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধনের বিষয়ে গত ২৬ ডিসেম্বর প্রথম আলোয় 'লক্ষ্যপূরণে ভুয়া জন্ম-মৃত্যুর নিবন্ধন' ও প্রথম আলো অনলাইনে 'শিশুর ভুয়া জন্ম–মৃত্যু দেখিয়ে নিবন্ধনের লক্ষ্যপূরণ' শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ জানুয়ারি রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয় থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসককে সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে চার ইউপির চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় মন্ত্রণালয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তারা

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যানরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউপির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন, বুধল ইউপির চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান; কসবা উপজেলার কুটি ইউপির চেয়ারম্যান মো. ফারুক ইসলাম ও আশুগঞ্জের চরচারতলা ইউপির চেয়ারম্যান ফাইজুর রহমান। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা হলেন কুটি ইউপির কাজী তাজউদ্দিন আহমেদ, সাদেকপুর ইউপির মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, বুধল ইউপির মো. হাসান ভূঁইয়া ও চরচারতলা ইউপির মো. রাসেল মাহমুদ।

আইনগত ভিত্তি

সাময়িক বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ভুয়া জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধন সনদ তৈরি করে জালিয়াতির মাধ্যমে জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধন লক্ষ্যমাত্রা পূরণের বিষয়টি সরেজমিন তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। ওই চার ইউপির চেয়ারম্যানের দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে আইনবহির্ভূত। তাদের সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪ (৪)-এর (খ) ধারায় অপরাধ সংঘটিত করায় একই আইনের ৩৪ (১) ধারা অনুযায়ী চার ইউপি চেয়ারম্যানকে স্বীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

শোকজ নোটিশ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা

শোকজের নোটিশে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪ (৪) ধারার অপরাধ সংঘটিত করায় ওই চার ইউপি চেয়ারম্যানকে কেন চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না, তার জবাব পত্র পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে পৃথক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই চারজনের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, জন্ম–মৃত্যুর নিবন্ধন নিয়ে প্রথম আলোয় প্রতিবেদন প্রকাশের পর তদন্ত করে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ দপ্তরে পাঠানো হয়। তদন্তে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উঠে আসা অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় চার ইউপির চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি শোকজের নোটিশ দিয়েছে।