শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যায় মামলা হয়নি, কেউ আটকও নয়
শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যায় মামলা হয়নি, কেউ আটকও নয়

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যার ঘটনায় আজ বুধবার দুপুর পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। এ ঘটনায় কাউকে আটকও করা যায়নি।

মামলার প্রস্তুতি চলছে

নিউমার্কেট থানায় দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) সিয়াম আহমেদ দুপুর ১২টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। এ ঘটনায় কেউ আটক বা গ্রেপ্তারও নেই। তবে টিটনের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ঘটনার বিবরণ

গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে আটটার দিকে নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় টিটনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিউমার্কেট থানার এসআই মোল্লা শাহাদাত জানান, রাত পৌনে আটটার দিকে মোটরসাইকেলে এসে দুজন দুর্বৃত্ত টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। খুব কাছ থেকে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচ থেকে ছয়টি গুলি করা হয়। এরপর দ্রুততম সময়ে তারা পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান পথচারীরা। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম গত রাতে জানান, নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা পাওয়া যায়নি। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

টিটনের অপরাধজীবন

পুলিশ জানায়, টিটন ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে অপরাধজগতে প্রবেশ করেন। তিনি প্রথমে স্থানীয় অপরাধী চক্রের সদস্য ছিলেন। ধীরে ধীরে অপরাধজগতে নিজের পরিচিতি বাড়াতে থাকেন। তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন। টিটন অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে অস্ত্রের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা।

ব্যক্তিগত তথ্য ও আইনি প্রক্রিয়া

পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, টিটনের জন্ম ১৯৬৬ সালে। তাঁর বাবার নাম কে এম ফখরুদ্দিন ও মায়ের নাম আকলিমা বেগম। ২০০৪ সালে টিটনকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। তবে ২০২৪ সালের ১২ আগস্টে তিনি জামিনে মুক্তি পান। কারামুক্তির পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে।