পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ ধাপে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ৭টা থেকে রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা এ খবর জানিয়েছে।
ভোটার সংখ্যা ও প্রার্থীরা
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই পর্বে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ২১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৮৩৭। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৬৪ লক্ষের বেশি এবং নারী ভোটার ১ কোটি ৫৭ লক্ষের বেশি। সোমবার রাতে ট্রাইবুনালের রায়ে নতুন করে ১ হাজার ৪৬৮ জনের নাম যুক্ত হলেও তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ৬ জন। শেষ পর্যায়ের ভোটযুদ্ধে মাঠে রয়েছেন এক হাজার ৪৪৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে পুরুষ প্রার্থী এক হাজার ২২৮ জন এবং নারী ২২০ জন। ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখোমুখি লড়াইয়ে রয়েছেন। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরজি কর হাসপাতালের নিহত চিকিৎসকের মা।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ৪১ হাজার একটি বুথের মধ্যে ৪ হাজার ৮৩৩টি বুথকে ‘অতি স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত দুই দিনে বিশৃঙ্খলা এড়াতে দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই দফায় দুই হাজার ৩০০ কোম্পানির বেশি বাহিনী রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৩৯ হাজার রাজ্য পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা অনুযায়ী বাহিনী মোতায়েন
সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়, যেখানে ৫১২ কোম্পানি বাহিনী রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৪১৩, হুগলিতে ৩২৩, নদীয়ায় ২৮৭, কলকাতায় ২৭৪, পূর্ব বর্ধমানে ২৬৩ এবং হাওড়ায় ২৫৮ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ-ও নজরদারিতে যুক্ত হয়েছে। কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় তারা পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে।
প্রথম দফার নির্বাচন ও ফলাফল
২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফার মতো শেষ দফার ভোটও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তৃণমূল কংগ্রেস আবারও ক্ষমতায় ফিরবে, নাকি সরকার পরিবর্তন হবে, তা জানা যাবে আগামী ৪ মে।



