পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোট আগামীকাল, সহিংসতা ও নিরাপত্তা জোরদার
পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোট আগামীকাল, সহিংসতা ও নিরাপত্তা জোরদার

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোট আগামীকাল বুধবার সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা ছটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলার মোট ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলবে। প্রথম দফার ভোট মোটামুটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলেও দ্বিতীয় দফার আগে কিছু কিছু আসনে সহিংসতা দেখা দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কলকাতা ছেড়ে যাওয়ার আগে বলেছেন, কলকাতার বিশেষণ ‘সিটি অব জয়’ থেকে বদলে তাঁরা ‘সিটি অব ফিউচার’ করে দেবেন। এর পাল্টা জবাবে তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা দলীয় কর্মী-সমর্থকদের এখন থেকেই সবুজ আবির কিনে রাখতে বলেছেন, কারণ ৪ মে ঘাটতি পড়তে পারে।

সহিংসতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে উত্তর চব্বিশ পরগনার ভাটপাড়া, হালিশহর, জগদ্দল, হাড়োয়া; হাওড়া; দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ভাঙর ও বীরভূম জেলার লাভপুর ও মুরারইয়ে বিক্ষিপ্ত সশস্ত্র সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই প্রায় ১ হাজার ৫০০ ব্যক্তিকে আটক করেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্তর চব্বিশ পরগনার ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত চার শীর্ষ পুলিশ কর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডায়মন্ডহারবারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অন্য তিন কর্মকর্তাকে। হাওড়া, কৃষ্ণনগর, বারাসাত, বসিরহাট, বারুইপুর ও সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল এলাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুজন করে শীর্ষ পুলিশ কর্তাকে। এই দফায় দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ অজয় পাল শর্মার আগমন

উত্তর প্রদেশের বহু চর্চিত পুলিশ কর্মকর্তা অজয় পাল শর্মা, যিনি ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ নামে পরিচিত, তাকে রাজ্যে আনা হয়েছে। তিনি তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়ি গিয়ে শাসিয়ে এসেছেন, যার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় উত্তেজনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ভোটার তালিকা ও বিতর্ক

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন আজ মঙ্গলবার অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। বাদ পড়া ২৭ লাখ ভোটারের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন অবস্থায় মাত্র ১ হাজার ৪৬৮ জন ভোট দেওয়ার ছাড়পত্র পেয়েছেন। প্রথম দফায় ভোট দিতে পেরেছিলেন মাত্র ১৩৯ জন। এর অর্থ, নির্বাচন কমিশনের গাফিলতির কারণে ২৭ লাখ মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

প্রথম দফার এলাকাগুলো বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হলেও দ্বিতীয় দফার সাত জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের গড়। কলকাতার ১১ আসনের একটিও গতবার বিজেপি জিততে পারেনি। হাওড়ার ১৬ আসন, পূর্ব বর্ধমানের ১৬ আসন এবং হুগলির ১৮ আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছিল মাত্র চারটি। তবে নদিয়া জেলায় বিজেপি ১৭ আসনের মধ্যে নয়টি আসন জিতেছিল। দ্বিতীয় দফায় বিজেপি কতটা টক্কর দেবে, তার ওপর নির্ভর করছে সরকার গঠনের সম্ভাবনা। গতবার এই ১৪২ আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছিল মাত্র ১৪টি।

বিতর্ক ও মামলা

ভোটপর্ব চলাকালে নারী সংরক্ষণসংক্রান্ত সংবিধান সংশোধন বিল পাস করাতে ব্যর্থ হয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। বিরোধীরা এটিকে আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গ বলে নির্বাচন কমিশনের কাছে আপত্তি জানালেও কোনো লাভ হয়নি। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিরুদ্ধে বিশেষ ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৩০ এপ্রিল শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।