সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল, রাষ্ট্রের আবেদন খারিজ
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যা মামলাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন বহাল রয়েছে। হাইকোর্টের দেওয়া এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) এ আদেশ দেন।

পাঁচ মামলার বিবরণ

পাঁচ মামলার মধ্যে যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা-সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে করা চার মামলায় গত ৮ মার্চ হাইকোর্ট থেকে জামিন পান খায়রুল হক। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আরেক মামলায় ১১ মার্চ তাকে জামিন দেওয়া হয়।

আদালতের শুনানি ও আদেশ

পরবর্তীতে এসব জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। ৮ এপ্রিল চেম্বার আদালতে ওঠা আবেদনগুলো শুনানির জন্য ২৬ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাহমুদ। অন্যদিকে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকীসহ একাধিক আইনজীবী।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে জানান, রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনগুলো খারিজ হওয়ায় পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রয়েছে। অন্য কোনো মামলা না থাকলে তার মুক্তিতে আইনগত বাধা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব মামলায় জামিন পাওয়ার পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার আরও দুটি হত্যা মামলায় গত ৩০ মার্চ তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খায়রুল হকের পটভূমি

উল্লেখ্য, খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন। গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার–সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শাহবাগ ও নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় পৃথক মামলা হয়। পাশাপাশি বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট গ্রহণের অভিযোগে দুদকও তার বিরুদ্ধে মামলা করে।