ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় গ্রেফতার সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক কাজী ইকবাল হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন।
তদন্তে উঠে আসা তথ্য
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সুদীপ চক্রবর্তী ও তার বান্ধবী উম্মে হানির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক মানতে পারেননি মিমো। বিষয়টি নিয়ে সুদীপের সঙ্গে তার মতবিরোধ তৈরি হয়। এরপর অভিমান করে আত্মহত্যা করেন তিনি। সুদীপ ও হানিকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের হোয়াটসঅ্যাপের কথোপকথনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী মো. নাসিরুল আমিন বলেন, মিমোর আত্মহত্যার ঘটনায় ইতোমধ্যে আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার আত্মহত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না তা জানতে কাজ চলমান। তদন্ত শেষে সঠিক কারণ জানা যাবে।
সম্পর্কের জটিলতা
তদন্তসংশ্লিষ্ট ও সহপাঠীরা বলছেন, বিবাহ বিচ্ছেদের পর নতুন করে প্রেমে পড়েন মিমো। তবে সেই সম্পর্ক টেকেনি বেশি দিন। পরে নিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে গড়ে তোলেন সম্পর্ক। দুই বছরের বেশি সময় চলা তাদের সম্পর্কের মাঝে ফাটল সৃষ্টি করে তার বান্ধবী উম্মে হানি। শিক্ষক সুদীপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি মিমো। তাদের মেলামেশা ও সম্পর্ক তৈরির সূত্র ধরে সুদীপের সঙ্গে মিমোর বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধ থেকেই আত্মহত্যা করেন তিনি।
আত্মহত্যার আগে লেখা চিরকুটের সূত্র ধরে বান্ধবী উম্মে হানিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে মিমোর আত্মহত্যার পেছনে তার সম্পৃক্ততা নেই বলে পুলিশ জানায়।



