আমেরিকার সঙ্গে 'অসম বাণিজ্য চুক্তি' বাতিলের দাবি
আমেরিকার সঙ্গে 'অসম বাণিজ্য চুক্তি' বাতিলের দাবি

আমেরিকার সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তিকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী ও দাসত্বের চুক্তি আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবিতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে জোটের পক্ষ থেকে এই স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

সমাবেশে বক্তাদের অভিযোগ

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই অসম চুক্তি করা হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশ আমেরিকার এক তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা বলেন, এই চুক্তির অধীনে বাংলাদেশকে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে আমেরিকা থেকে গম আমদানি করতে হবে এবং একইসঙ্গে জ্বালানি তেল ও কৃষিপণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রেও কঠিন শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, সুতা ও ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে বাধ্যবাধকতা তৈরির ফলে দেশীয় পোশাক শিল্প ও অন্যান্য উৎপাদনমুখী খাত মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। ভারত বা চীনের মতো দেশ থেকে কম দামে পণ্য আমদানির সুযোগ থাকলেও এই চুক্তির কারণে জনগণকে তিন থেকে চারগুণ বেশি দাম দিয়ে পণ্য কিনতে হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিন দাবি উত্থাপন

সমাবেশে বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ সুনির্দিষ্টভাবে তিনটি দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অবিলম্বে এই গোলামির বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করার পাশাপাশি লালদিয়া ও পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। এছাড়া ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা এবং ইরানে হামলার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা প্রস্তাব আনার আহ্বান জানান তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের নীরবতার সমালোচনা

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সব সময় সাম্রাজ্যবাদ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা থাকলেও সরকার বর্তমানে নীরব ভূমিকা পালন করছে। মালয়েশিয়া ও ভারতের মতো দেশগুলো ইতোমধ্যে এ ধরনের চুক্তি বাতিল বা স্থগিত করেছে। নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশবিরোধী এই চুক্তি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।

সমাবেশে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ

বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক কাফি রতন, বাসদ (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির মোশরেফা মিশুসহ জোটের শীর্ষ নেতারা। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংসদের স্পিকারের কাছে গিয়ে তাদের দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি ও সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি হস্তান্তর করেন।

সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের অন্তর্ভুক্ত দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাসদ, বাংলাদেশ জাসদ, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টিসহ ১৩টি দল এই আন্দোলন গড়ে তুলেছে।