চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা প্রেস ক্লাবে হামলা ও সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় অভিযুক্ত চঞ্চল হোসেনের পক্ষে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা। রোববার দুপুরে দর্শনার রেলবাজার বটতলায় দর্শনা থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়েল ইসলাম লিওনের নেতৃত্বে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
এদিকে এ ঘটনায় দর্শনা থানার ওসি মেহেদী হাসানকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। জানা গেছে, শুক্রবার রাতে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম চঞ্চল হোসেন মদ্যপ অবস্থায় প্রেসক্লাব ভবনে প্রবেশ করে অশোভন আচরণ, সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং পরবর্তীতে দলবল নিয়ে ঢুকে আব্দুল হান্নান নামে এক সাংবাদিককে মারধর করা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, সৃষ্টি করা হয় মব এবং ভাঙচুরের চেষ্টা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
চঞ্চলের বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় মাদকের মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। শনিবার বিকালে সাংবাদিক বাদী হয়ে ২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৮-২০ জনের নামে একটি মামলা করেন। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরুলেও মামলা রেকর্ডভুক্ত হয়নি। এ ঘটনার জেরে দর্শনা থানার ওসি মেহেদী হাসানকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।
এরপর রোববার রেলবাজার বটতলায় অভিযুক্ত চঞ্চল হোসেনের পক্ষে মানববন্ধন আয়োজন করা হয়। যেখানে ছাত্রদলের নেতা রিয়েল ইসলাম লিওনের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক ও প্রেস ক্লাবের নাম উল্লেখ করে বিষোদগার করা হয়।
দর্শনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি সুসংগঠিত ছাত্রসংগঠনের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের নিন্দনীয় ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়, তারা কখনই গণতন্ত্র বা রাজনীতির অংশ হতে পারে না। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এমনকি অভিযুক্ত চঞ্চল হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় মাদক মামলা রয়েছে।
এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মমিন মালিতা বলেন, ছাত্রদলের কোনো সদস্যের মাদক ব্যবসায়ী বা সেবীদের সঙ্গে যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান বলেন, মাদক ব্যবসায়ী বা সেবীর পক্ষে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততার সুযোগ নেই। যদি কেউ এমন কাজ করে থাকে, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত দায়। দল মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। এমন হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় (দামুড়হুদা-দর্শনা-জীবননগর সার্কেল) চুয়াডাঙ্গা সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ারুল কোবির জানান, রোববার বিকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দর্শনা থানার ওসি মেহেদী হাসানকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবির খান বলেন, এ বিষয়ে আমাদের পুলিশ কাজ করছে; প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



